তাজিয়া মিছিলে ছিল না রক্ত ঝরানো মাতম

 
শিয়া ধর্মাবলম্বীদের তাজিয়া মিছিলের চিরচেনা একটি দৃশ্য হলো— ছুরি, চাবুক দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করে শোকের মাতমে মেতে ওঠা। কিন্তু সেই দৃশ্যটি এবার দেখা গেলা না রাজধানীর তাজিয়া মিছিলগুলোতে।
 
তবে এই পরিবর্তনটা এসেছে সরকারি সিদ্ধান্তে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে নির্দেশনা ছিল, মহররম মাসের মিছিলগুলোতে ছুরি, বল্লম, দা ও তলোয়ারের ব্যবহার করা যাবে না।
 
IMG0
 
গত বছরের ২৪ অক্টোবর রাত পৌনে ২টায় এমনই এক তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি চলার সময় হোসেনী দালান চত্বরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক যুবক মারা যান, আহত হন অন্তত ৭০ জন। ঢাকার তাজিয়া মিছিলের ৪০০ বছরের ইতিহাসে সেবারই প্রথম সরাসরি শোকের ছায়া নেমে আসে। ফলে এক বছর পর আরেকবার যখন আশুরা উদযাপন করছেন শিয়া ধর্মাবলম্বীরা, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির মধ্যে অনেক ধর্মীয় আচারও বাদ দিয়েছেন তারা। এতে তাজিয়া মিছিলের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
 
সকাল থেকেই হাজারো শিয়া ধর্মাবলম্বী মিছিলে অংশ নিয়েছেন। ফলে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যানজটও দেখা গেছে। বকশীবাজার, আজিমপুর, নীলক্ষেত মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাজিয়া মিছিল দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেছেন। মিছিলটি ধানমন্ডির প্রতীকি কারবালাতে গিয়ে শেষ হয়।
 
IMG1

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের (রা.) শহীদ দিবস আরবী মহররম মাসের ১০ তারিখকে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালন করেন শিয়া মতাবলম্বীরা। সপ্তম শতকে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন ইমাম হোসেন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে মুয়াবিয়াপুত্র ইয়াজিদ ইমাম হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই বিয়োগান্ত ঘটনার স্মরণে প্রতিবছরই ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে তাজিয়া মিছিল বের করে শিয়ারা।