গাংনীতে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বর পরিবারের নিকটাত্মীয়, গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি,সচ্ছল পরিবারের সদস্য,ক্ষমতাসীন দলের নেতা- কর্মীদের হাতে হতদরিদ্রদের জন্য দেয়া চালের কার্ড দেখা গেছে। এ ছাড়াও কার্ডধারীদের অভিযোগে আরও জানা গেছে, গোডাউন থেকে চাল ওজনে কম পাওয়ার অজুহাতে ডিলাররা ৩০ কেজির স্থলে ২৭ থেকে ২৮ কেজি করে চাল দিচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সাহারবাটী ইউনিয়নের ধর্মচাকী পশ্চিম পাড়া গ্রামের সামসুল আলম, রফিকুল ইসলাম, সামসের আলীকে কার্ড দেয়া হয়েছে।
তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সহড়াতলা গ্রামের মকবুল হোসন, এনামুল হক, আশমত আলী, সাহারুল ইসলাম, মিনারুল ইসলাম, আমজাদ, আ. কুদ্দুস, আফতাব আলী, দুলাল, নবীর, লালন ও মতিয়ার রহমান।
রায়পুর ইউনিয়নের বাথানপাড়া গ্রামের মেম্বর গোলাম হোসেন নিজ পরিবারের নামে একাধিক কার্ড করে চাল সংগ্রহ করছেন। সাহারবাটী গ্রামের মেম্বার আনারুল ইসলাম ও রায়পুর ইউনিয়নের ডিলার আ. হান্নান জানান, অনেকে মোটর সাইকেল যোগে এসে চাল নিয়ে যাচ্ছে। এরা সবাই ধনী ও সচ্ছল। এদের জমিজমা, ব্যবসা এমনকি পাকা বাড়িঘর রয়েছে।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, বাথানপাড়ার মেম্বর তাঁর গ্রামের কার্ডগুলি নিজের দায়িত্বে রেখে কার্ডপ্রতি ১ হাজার করে টাকা উত্তোলন করেছেন। একইভাবে কাজীপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বজলু মেলেটারি সুযোগ বুঝে একই পাড়ার শরিফা খাতুন, লিটন, নজরুল মোল্লা ও তার স্ত্রী ছাড়াও কমপক্ষে ১০-১২ জনের নিকট থেকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে অফিসের দোহাই দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়াও নিজ পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক কার্ড করেছেন।
অভিযোগে আরো জানা গেছে, নওদাপাড়ার মেম্বর আ. রশিদ, মহিলা মেম্বর পারভীনা খাতুন ও সাহেবনগরের মেম্বর হাবীব হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম করেছে। অথচ নওদাপাড়া বাজারপাড়ার হতদরিদ্র খবিরউদ্দীন পাগল, রাস্তার মাটিকাটা শ্রমিক আম্বিয়া খাতুন, কমেলা, পারুল খাতুন, সাহেবনগরের সাবিনা, কাজীপুরের করিমন নেছাকে কোন কার্ড দেয়া হয়নি। এরা সবাই স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা, অসহায় হতদরিদ্র মানুষ।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামান জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নের ডিলারদের চাল বিতরণ মনিটরিং করার জন্য ইতোমধ্যে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। কোথাও কোন অনিয়ম, অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরএ