ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের গোপালপুর, তিলাইপাড়া ও কামারডাঙ্গা এই ৪ গ্রাম আদিবাসী গ্রাম নামে পরিচিত। এই ৪ গ্রামে ১১৫ আদিবাসী পরিবারের বসবাস। পেশায় প্রায় সকলেই কৃষি শ্রমিক। আশ্বিন মাস থেকে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত হাতে তেমন কাজ-কর্ম থাকে না তাদের। এ সময় অলস সময় কাটে তাদের। হাতে কাজ না থাকায় অভাবের তাড়নায় আগাম শ্রম বিক্রিসহ বিভিন্নভাবে ধারদেনা করতে হয়। তাদের ভাষা এই সময়টুকু তাদের কাছে কষ্টের সময়। কষ্টের সময়টা পার করতে গ্রামের আদিবাসী নারীরা হাতে শাবল-খন্তা নিয়ে দলে দলে প্রতিদিন সকালে বেরিয়ে পড়েন ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরের বন এলাকা থেকে বন আলু সংগ্রহের জন্য। অবশ্য তাদের শিশু-কিশোর সন্তানরাও সঙ্গে যায় বন আলু সংগ্রহের জন্য। যেটি তাদের রাতের খাবার হয়।
শিবনগর ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় দেখা হয় একদল আদিবাসী নারীর সঙ্গে। সঙ্গে রয়েছে বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোর-কিশোরী। প্রত্যেকেরই হাতে রয়েছে মাটি খোঁড়ার শাবল (খন্তা)।
গোপালপুর গ্রামের আদিবাসী গৃহবধূ গোলাপী মুরমু (২৮), দুলালী সরেন (৩৫), পাউলিনা বেসরা (৩৩), তিলাইপাড়ার সনতি সরেন (২৯) ও কামারপাড়ার মনি চঁড়ে (৩১) বলেন, বেঁচে থাকার একমাত্র কাজই হচ্ছে খেত-খামারে মজুরি দেওয়া। কিন্তু এ সময় খেত-খামারে কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন তারা।
সংসারের অভাবের কারণে ধারদেনা করতে হয়। বাধ্য হয়ে অনেকে গৃহস্থদের কাছে আগাম শ্রমও বিক্রি করে দেন। রাতের খাবারের জন্য প্রতিদিন সকালে দল বেঁধে ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে রামরাইপুর শাল বাগানের মাটির নীচে থাকা বন আলু খুঁড়ে বের করে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত এক একজন অন্তত ১৩ থেকে ১৫ কেজি বন আলু সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন। এই আলু খুবই তেতো হওয়ায় আগের দিন সিদ্ধ করে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন ভাতের পরিবর্তে সেগুলো খেয়ে থাকেন।
এলাকার আদিবাসী নেতা ইপিল হাঁসদা বলেন, সরকার হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করলেও বেশির ভাগ আদিবাসীই সেই কার্ড পায়নি। সরকারের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও আদিবাসী বঞ্চিত হয়ে থাকেন।
ইত্তেফাক/এএন