চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর ঢাকা সফর উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছে ঢাকা। তোরণ নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীনের বন্ধুত্বের কথাগুলো স্মরণ করে টাঙানো হয়েছে নানা পোস্টার। এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালায়ও শুরু হয়েছে চীনা বইয়ের সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনী। ‘চায়না ইন্টারন্যাশনাল বুক ট্রেডিং করপোরেশন’ এবং ‘বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার’ এর যৌথ আয়োজনে গত মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হয় এই প্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীতে উপস্থিত ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী থুও চেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং ছিয়াং, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম আশিকুর রহমান এমপি প্রমুখ।
প্রদর্শনীর একটি বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের লেখা ‘দ্য গভর্নেন্স অব চায়না’ বইটির ইংরেজি ও চীনা ভার্সন। প্রদর্শনীতে চীনের ভাষা, রাজনীতি, শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাসসহ নানা বিষয়ে চাইনিজ ও ইংরেজি ভাষার বই স্থান পেয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থুও চেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিল্প-সংস্কৃতিতে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
এই প্রদর্শনীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অফিস অব স্টেট কাউন্সিল অব পিপলস রিপাবলিক অব চায়না ও ঢাকার চীনা দূতাবাস। অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে চীনা ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং গ্রুপ।
শিল্পকলায় ’জয়ন্তীর জলছবি’ র প্রদর্শনী শুরু
দেশের বিশিষ্ট বার জন শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে ’জয়ন্তীর জলছবি’ শিরোনামে আট দিনব্যাপী এক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। শুক্রবার ‘অন্বেষণ গণপাঠাগার ও সমাজ উন্নয়নকেন্দ্র’ এবং শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এ প্রদর্শনীতে।
প্রদর্শনীতে শিল্পী হামিদুজ্জামান খান, শিল্পী রণজিৎ দাস, শিল্পী সাঈদা কামাল, শিল্পী আইভি জামান, শিল্পী ফরিদ হোসেন, শিল্পী রশীদ আমিন, শিল্পী রাশেদুল হুদা, শিল্পী কারু তিতাস, শিল্পী আলপ্তগীন তুষার, শিল্পী মহিউদ্দিন আহমেদ মহিম, শিল্পী আজমীর হোসেন ও শিল্পী শাহানুর মামুনের শিল্পকর্ম স্থান পাবে। এ ছাড়া, আলোকচিত্রী গোলাম মুস্তাফার কয়েকটি আলোকচিত্রও এতে স্থান পেয়েছে।
বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার জয়ন্তী নদী বিধৌত নাজিরপুর গ্রামে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ’অন্বেষণ গণপাঠাগার ও সমাজ উন্নয়নকেন্দ্র’ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্পে বার জন চিত্রশিল্পী অংশ নিয়ে যেসব ছবি আঁকেন তাঁদের সেসব চিত্রকর্ম এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। নাজিরপুর গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সহজ-সরল মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এসব চিত্রকর্মে তুলে ধরা হয়েছে। নাজিরপুর গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের জীবন ও কর্মের ওপর তোলা আলোকচিত্রী গোলাম মুস্তাফার বেশ কয়েকটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে।
শিল্পকলা একাডেমিতে বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারি-৪-এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিল্পসমালোচক মঈনুদ্দিন খালেদ। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা মো. ইমদাদুল হক।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ শুরু স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শনী
হাজার হাজার ইঁদুর ছড়িয়ে রয়েছে গ্যালারিতে। ঢোকার মুখেও দেখা মিললো ইঁদুরের। ইঁদুরে মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা, যা পৃথিবীকে ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যতের দিকে। এ ভাবনা থেকেই ভিন্নধর্মী স্থাপনাশিল্প প্রদর্শনীটি সাজিয়েছেন শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীন। তিনি জানালেন, মানুষ এমন লোভে ডুবে আছে, যে সব কিছু খেয়ে ফেলতে চায়। বন, পশু-পাখী, সাগর, বাতাস এমনকি নিজেদেরকেও।
রাজধানীর ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হলো ভিন্নধর্মী স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শনী। শুক্রবার এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত সোফি অবের। বিশেষ অতিথি ছিলেণ শিল্পী ও চিত্র সমালোচক মোস্তফা জামান এবং জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকার পরিচালক ব্রুনো প্লাস।
প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে কয়েক হাজার পোড়ামাটির ইঁদুর নিয়ে ইন্সটলেশন, শত শত তীর নিয়ে একটি ভিডিও ইন্সটলেশন এবং কিছু চিত্রকর্ম যা তৈরি হয়েছে সাঁওতালদের ঘর লেপার পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করে।
প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।