পেন ইন্টারন্যাশনাল 'রাইটার অব কারেজ' পুরস্কার লাভ টুটুলের

 
কানাডার খ্যাতিমান লেখিকা মার্গারেট অ্যাটউড গত বৃহস্পতিবার পেন ইন্টারন্যাশনাল রাইটার অব কারেজ পুরস্কার ঘোষণা করেন। এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেন বাংলাদেশের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরের প্রকাশক ও লেখক আহমেদুর রশীদ টুটুল।
 
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে জানা  যায়, পুরষ্কার ঘোষণার সময় মার্গারেট অ্যাটউড বলেন, বাংলাদেশের এই প্রকাশককে পুরস্কার দিতে পারায় গর্ববোধ করছি। কারণ, দুর্বিপাকের মধ্যে তিনি শুধু ব্যক্তিগত সাহসই দেখাননি, সহিংসতার কারণে নিশ্চুপ হয়ে যাওয়ার হুমকির মধ্যে রয়েছেন।
 
জঙ্গি হামলায় আহত টুটুল এখন সপরিবারে নরওয়ে নির্বাসিত। নরওয়ে থেকে তিনি ইত্তেফাকে জানান, একটা ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল, মুক্তবুদ্ধির নিরাপদ রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য যারা কাজ করছেন, এই পুরস্কার তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে উৎসাহ যোগাবে বলে আমি মনে করি। যদিও আমি পুরস্কারের কথা ভেবে কখনো কোন কাজ করিনি এবং পুরস্কার পাওয়ার মতো তেমন কিছু করতে পেরেছি বলেও মনে করি না। তবে এই সম্মান অর্থাৎ পুরস্কার পাওয়ায় একটা আনন্দ আছে। কমিটমেন্টের জায়গাটা পোক্ত করতে, কাজের গতি বাড়াতে পুরস্কার অনুপ্রেরণা যোগায়। ইংলিশ পেন এর পিন্টার প্রাইজ প্রাপ্তি আমাকে ধর্মীয় ও সামাজিক গোঁড়ামি এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লেখা ও প্রকাশনার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে শক্তি ও সাহস যোগাবে। আমি চেষ্টা করছি বাংলাদেশে লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যার ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে।
 
একটা ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল, মুক্তবুদ্ধির নিরাপদ রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য যারা কাজ করছেন, এই পুরস্কার তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে ও উৎসাহ যোগাবে বলে আমি মনে করি।
 
উল্লেখ্য, সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্রয়াত হ্যারল্ড পিন্টারের সম্মানে ২০০৯ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে কানাডার জনপ্রিয় লেখিকা মার্গারেট অ্যাটউড এবং ২০১৪ সালে সালমান রুশদীও এই পুরস্কার পান।
 
ইত্তেফাক/আরএ