জয়পুরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সাড়ে ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ

জেলার ঐতিহ্যবাহী জয়পুরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা নাসরিন আক্তারের বিরুদ্ধে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়টি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে জানানোর দীর্ঘদিনেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বিদ্যালয়কে পাশ কাটিয়ে সিল স্বাক্ষর জাল করে লামগ্রান্ট ও পিআরএলের সাড়ে তিনি লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। যা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানে না।
 
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদা নাসরিন আক্তার ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ২০১৪ সালের ৭ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে এলপি আরে যান। মোট ৪৫ মাস চাকরির শেষ ১৮ মাসের অডিটে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩২ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে বলে অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মাহমুদা নাসরিন অবসরে যাওয়ার পর বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ২০১৫ সালের ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় তা উপস্থাপন করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল মতিন মন্ডলকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ১৮ মাসের নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষে প্রতিবেদন পরবর্তী ২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সভায় উপস্থাপন করেন। বিপুল অংকের টাকা তসরুপের ঘটনায় অধিকতর যাচাই-বাছাই করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। উল্টো বিদ্যালয়কে পাশ কাটিয়ে সিল স্বাক্ষর জাল করে লামগ্র্যান্ট ও পিআরএলের সাড়ে তিন লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে স্থানীয় হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে। অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী আত্মসাত করা ২০ খাতের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য খাত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নাস্তা খাতে পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ৯৫০ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ খাতে ৪৪ হাজার ৮৫৬ টাকা, ছাপা/মুদ্রন খাতে এক লাখ ৪১ হাজার ৬২১ টাকা, খেলাধুলায় ৮৩ হাজার ৯০৯ টাকা, সমাজ ও সংস্কৃতি খাতে ৯২ হাজার ১৬০ টাকা, দরিদ্র কল্যাণ খাতে ৭৪ হাজার ২৯০ টাকা, রেডক্রিসেন্ট খাতে এক লাখ দুই হাজার ৮০৯ টাকা, পরীক্ষা খাতে দুই লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও অত্যাবশ্যকীয় খাতে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৮৬০ টাকা। এ ছাড়াও শিক্ষকদের নিকট থেকে নেয়া টিফিনের ৮৫ হাজার টাকা, চার্জগ্রহণের সময় আগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মঞ্জুর রশিদের নিকট থেকে নগদ গ্রহন করা ৪৫ হাজার টাকা ও টিফিনের কমিশনের দুই লাখ টাকার কোনো হিসেব নাই বলে অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি পর্যালোচনায় বলেন, নথি পত্র, স্টক রেজিস্ট্রার ও ডেড স্টক রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ নাই, ক্যাশ বুকে ঘষা মাজা ফ্লুইড ব্যবহার করা, বিদ্যালয়ের আদায়কৃত টাকা চালান বহি মোতাবেক ব্যাংকে জমা করা হয়নি, খরচের ভাউচারে তারিখ ঘষা মাজা, পাশ না করা এবং ব্যাংক স্টেটম্যান্টেও ফ্লুইড লাগানো হয়েছে। অধিক তদন্তে আরো আত্মসাতের ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে অপর এক সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ গত বছর ১৮ নভেম্বর স্থানীয় ও রাজস্ব অডিট অধিদফতর থেকে একটি অডিট পরিচালনা করা হয়েছে। টিম লিডার ছিলেন রাজস্ব অডিট অধিদফতরের সুপারিনটেনডেন্ট সফিকুর রহমান। সেখানেও ওই তসরুপের ঘটনা ধরা পড়েছে।
 
বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমান উদ্দিন মন্ডল অর্থ আত্মসাতের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ