পুরান ঢাকায় পানিতে দুর্গন্ধ ফুটিয়েও পান করা যাচ্ছে না

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পানিতে দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। বনগ্রাম, ওয়ারী, শশীমোহন বসাক লেন, উত্তর মৈশুন্ডি, দক্ষিণ মৈশুন্ডি ও টিপু সুলতান রোড এলাকার বাসিন্দারা পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। গন্ধের কারণে পানি ফুটিয়েও পান করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়াসা অফিসে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এদিকে রাজধানীর হাতিরপুল ফ্রি-স্কুল স্ট্রিট এলাকায় ১০ দিন ধরে খাবার পানি নেই। পানি কষ্টে এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে আছেন। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তারা এক ফোটা পানি পাচ্ছেন না।
 
শশীমোহন বসাক লেন এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ চন্দ্র দে বলেন, গত এক মাস ধরে এই এলাকার পানিতে দুর্গন্ধ দেখা দিয়েছে। ফুটানোর পর পাত্রের তলায় কালো গাঁদ জমা হচ্ছে। পানি হচ্ছে আঠাল। এই পানি কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ওয়ারীর বাসিন্দা নাসিম আনোয়ার বলেন, ওয়াসার পানি দুর্গন্ধময়। এই পানি খাওয়া তো দূরে থাক, গোসলও করা যাচ্ছে না। এই পানি দিয়ে গোসল করার পর চুল আঠাল হয়ে যাচ্ছে। পুরো সংসার চলছে কেনা পানিতে। তিনি পানি সমস্যার আশু সমাধান চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে।
 
হাতিরপুল এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ফ্রি-স্কুল স্ট্রিট এলাকায় গত ১০ দিন ধরে পানি নেই। ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে গভীর রাত থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত পানি পাওয়া যাবে বলে বলা হলেও রাত দুটাতেও পাওয়া যায় না পানি। পানি কিনতে হয় বেশি দামে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
 
ওয়াসার উদ্যোগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) চওড়া পাইপ বসানোর পর থেকে এলাকায় মাঝে মাঝেই পানি থাকে না। আমিনুর রহমান নামের এক বাসিন্দা বলেন, এডিবির পাইপলাইন বসানোর সময় ওয়াসার স্থানীয় আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল পানির সমস্যা হবে না। কিন্তু এখন মাঝে মাঝেই পানি থাকে না। ওয়াসার আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল এলাকার পানির কিছু সমস্যা থাকায় সময় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। রাত আটটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত পানি থাকবে। অথচ রাত তিনটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পানি পাওয়া যায় না।
 
এলাকার অন্য বাসিন্দা শেফালী আক্তার বলেন, পুরোনো লাইনে বেশির ভাগ সময়ই পানি পাওয়া যেত। এখন মোটর দিয়ে টেনেও পানি আসে না। অথচ ওয়াসা বলেছিল মোটর ছাড়াই অন্তত ২০ ফুট ওপরে পানির বেগ ভালো থাকবে। তারা বলেন, বছর খানেক আগে পানির নতুন লাইনের পাইপ বসানোর জন্য রাস্তা খোঁড়া হয়। এই খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তায় হাঁটাই দুষ্কর হয়ে গিয়েছিল। তারপরও এলাকাবাসী ভেবেছিলেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ পানি পাওয়ার স্বার্থে এই দুর্ভোগ সহ্য করাই যায়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
 
এলাকাবাসী বলেন ওয়াসায় অভিযোগ জানালে পানি কিনতে বলা হয়। পানির গাড়ি চাইলে গায়ে লেখা মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত হারে বকশিশ চাওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।
 
লালমাটিয়ায় ঢাকা ওয়াসার ৩ নম্বর আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বলা হয়, এলাকায় একটি নতুন গভীর নলকূপ বসানো জরুরি। তা হলেই পর্যাপ্ত পানি বিতরণ সম্ভব। কিন্তু জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকায় পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ রয়েছে। হাতিরপুল এলাকায় পানি সংকটের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানলাম। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এএন