বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। মা পরের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান। তাদের মেধাবী কন্যা আইরিন আক্তার রিনা এবার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু অর্থাভাবে তার মেডিক্যালে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
রবিবার উপজেলার কিসামত কামারপুকুর মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা বাড়িঘর। বাবা ইউনুস আলী ভোরে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন। মেধাবী ছাত্রী আইরিন অভাবী সংসারে পড়াশোনা করে এই সফলতা অর্জন করেছে। তার ছিল না কোনো প্রাইভেট বা কোচিং। প্রতিদিন ২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ইজিবাইক বা রিকশা ভ্যানে সে গেছে কলেজে। অনেক সময় ইজিবাইকের ভাড়াও থাকত না তার কাছে।
আইরিন আক্তার রিনা জানায়, সে বাগডোকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে। তারপর সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায়। বর্তমানে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। চলতি মাসের ২০ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। ভর্তি হতে ১৮-২০ হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু এই টাকা তার বাবা-মায়ের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। আইরিনের মা বেলী বেগম জানান, মেয়ের ভালো ফলাফলে সবাই সন্তুষ্ট হলেও মেডিক্যালে ভর্তি নিয়ে আমাদের চিন্তার শেষ নেই। কী করব ভেবে পাচ্ছি না।
সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. আমির আলী আজাদ জানান, প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী এবার মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তিনি এই মেধাবী ছাত্রীর লেখাপড়াসহ ভর্তির সহায়তার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সাহায্য পাঠানোর মোবাইল ও বিকাশ নম্বর ০১৭৩৭৩৬৩২৬৭।
ইত্তেফাক/এএন