কালাইয়ে মামলার বিজয়ী তিন কাউন্সিলরের শপথ বৃহস্পতিবার

জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভা নির্বাচনে জাল ভোট, কারচুপি এবং অনিয়মের অভিযোগে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পরাজিত চারজন কাউন্সিলর আদালতে মামলা দায়ের করলে বিচারক মামলার বাদী পরাজিত ওই চার কাউন্সিলরের পক্ষে রায় ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচনে ঘোষিত বিজয়ী অপর চার কাউন্সিলর ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে তাও সোমবার খারিজ হয়ে যায়।
 
এদিকে নির্বাচন কমিশনার মামলার বিজয়ী চার কাউন্সিলরের মধ্যে তিনজনের নামে গেজেট প্রকাশ করেছেন। বুধবার সকালে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক শপথের পত্র হাতে পেয়েছেন তারা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে শপথ নিবেন বলে জানিয়েছে ওই তিন কাউন্সিলর।
 
আদালত ও নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর কালাই পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে পৌরসভার চারটি ওয়ার্ডে জাল ভোট, কারচুপি এবং অনিয়মের অভিযোগে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে নির্বাচনের পর কালাই পৌসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর আমিরুল ইসলাম, দাদে এলাহী, ফেরদৌস আলম এবং সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর জান্নাতি বেগম পৃথক মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচনী  ট্রাইব্যুনাল ও প্রথম যুগ্ম জেলা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক ২০ জুলাই উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে ওই দিন চারটি ওয়ার্ডের পুণরায় ভোট গণনা করেন। ভোট গণনার পর মামলার বাদীরা নির্বাচনে ঘোষিত বিজয়ী চার কাউন্সিলরের চেয়ে অনেক ভোট বেশি পান। এতে বাদী পক্ষের আইনজীবী তাদের অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। এদিকে আদালত নির্বাচনে বিজয়ী চার কাউন্সিলরের পদকে অবৈধ ঘোষণা করে পরাজিত ওই চার কাউন্সিলরের পক্ষে রায় দেন। পরে নির্বাচনে ঘোষিত বিজয়ী অপর চার কাউন্সিলর মামুনুর রশিদ জিয়া, রেজাউল করিম, রেজাউল করিম মন্ডল ও মমতাজ বেগম ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন। গত সোমবার শুনানি শেষে বিচারক আব্দুর রহিম তাও খারিজ করে দেন।
 
এ দিকে নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে উপ-সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২) ফরহাদ আহাম্মদ খান গত ৩ ও ৪ অক্টোবর স্বাক্ষরিত গেজেটে সংশোধনী আকারে ১ নং ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর আমিরুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ডে দাদে এলাহী এবং সংরক্ষিত ৩ নং ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর জান্নাতি বেগমের নাম প্রকাশ করেছেন। তবে প্রকাশিত গেজেট গত সোমবার বিকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসে পৌছার পর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।
 
গেজেট পেয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এক পত্রের মাধ্যমে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তার কার্যালয়ে ওই তিন কাউন্সিলরকে উপস্থিত থেকে শপথ নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ