'জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে'

পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেছেন, 'দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।'
 
পানিসম্পদ মন্ত্রী বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে এক গণশুনানী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি।
 
'অভয়নগর-মনিরামপুর-কেশবপুর-ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি পদক্ষেপ ও জনগণের দাবি' শীর্ষক এই গণশুনারী যৌথভাবে আয়োজন করে এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং বেলা। পানি অধিকার ফোরাম ও কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিসেস আজকের অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করে।
 
এএলআরডি'র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে 'ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধ সমস্যার সমাধানে জনগণের ভাবনা' শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থানীয় ভবদহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আ. মতলেব সরদার।
 
এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, 'গঙ্গা বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হলে দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতাসহ অন্য সব সমস্যার সমাধান হবে। এসব এলাকায় লবণাক্তটা রোধ, আর্সেনিক নিরোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, কৃষি ফসল ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এছাড়া এ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে।
 
যশোরের ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, 'এ এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) স্থায়ী কোন সমাধান নয়, এটি একটি আপাতত সমাধান। অন্যকোন উন্নত সমাধান থাকলে তা অনুসন্ধান করতে হবে।'
 
আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য ড্রেজিং ব্যবস্থাকে অত্যধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। ড্রেসিঙয়ের মাধ্যমে নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষার প্রচেষ্টা চলছে। আপার ভৈরবে ড্রেসিঙয়ের কাজ শুরু হয়েছে, এছাড়া আমরা লোয়ার ভৈরবও ড্রেজিং করবো।'
 
তিনি আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভবদহ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন জানিয়ে অনুষ্ঠানে বলেন, 'ভবদহ এলাকায় কোন প্রকল্প গ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যৌথভাবে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। প্রকল্প চলাকালীন ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।'
 
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সামনে আগত শুষ্ক মৌসুমে বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়ন করতে হবে। এখানে জমির মালিকসহ সকল ধরণের ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া, জোয়ার ধরার জন্য জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য লিজ প্রদান এবং টিআরএম বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদ নির্ধারণ করা।
 
অনুষ্ঠানে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতার দুর্বিষহ চিত্র তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রদর্শনী করা হয়। -বাসস।
 
ইত্তেফাক/এসএস