১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড নিয়ে সংঘর্ষ, মামলা

বগুড়ার আদমদিঘীতে চালের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। শুধু এ ঘটনাটিই নয়, প্রতিদিনই এ রকম দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসছে। সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। 
বুধবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল আহমেদের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, সহ-সভাপতি সৈয়দ আহমেদ প্রমুখ ।
 
সমাবেশে বক্তারা বলেন, হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল সরকারি দলের লোকজন, ডিলার ও অসাধু চেয়ারম্যান-মেম্বাররা লুট করছেন। প্রকৃত গরীব লোক এ চাল পাচ্ছে না। বক্তারা অবিলম্বে চাল বিতরণে সকল অনিয়ম বন্ধ এবং প্রকৃত গরীবদের মধ্যে চাল বিতরণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
 
আদমদীঘিতে ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড নিয়ে সংঘর্ষ
 
আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে আদমদীঘির চকবাড়িয়া গ্রামে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় দুলু খোরশেদসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার চকবাড়িয়া গ্রামের তাছের আলী বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় এই মামলা দায়ের করেন। এদিকে গ্রেফতারকৃত দুলু ও খোরশেদ আলমকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
 
উল্লেখ্য, আদমদীঘির চাঁপাপুর ইউনিয়নের চকবাড়িয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জাহাঙ্গীর আলম ও দুলুর মধ্যে গ্রামে দীর্ঘদিন যাবত আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি ওই গ্রামে হতদরিদ্রদের মাঝে ১০টাকা কেজি মূল্যে চাল বিতরণের জন্য রেশন কার্ড বরাদ্দ ও বিতরণের আধিপত্য নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এর জের ধরে গত ১৭ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় জনৈক মোমিনের বাড়ির পার্শ্বে সংঘর্ষ বাঁধলে ১৫জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও আদামদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
ছাতকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল যাচ্ছে ডিলারদের পেটে
 
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ছাতকে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল চলে যাচ্ছে ডিলারদের পেটে। ৩০কেজি চালের স্থলে ২৫-২৬ কেজি চাল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে কার্ডধারীদের। এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ডিলারদের বিরুদ্ধে। এদিকে বালতি দিয়ে চাল মেপে দেয়ার কথা স্বীকার করে ইউনিয়নের ডিলার আবু সালামসহ একাধিক ডিলার জানান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গোদাম কর্মকর্তাকে নির্ধারিত হারে টাকা দিয়েও গোদাম থেকে কম চাল নিতে হচ্ছে তাদের। এলাকায় চাল নিয়ে এসব কম চালের ভতুর্কিও দিতে হচ্ছে ডিলারদের।
 
এদিকে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে ১০টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে গত মঙ্গলবার ভুঁইগাঁও মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছালিক মিয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ইউনিয়নের দু’জন ডিলারই ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে অনিয়ম ও আত্মসাত করেছেন। এ ব্যাপারে ডিলার আজিজুর রহমান ১০টাকা কেজির চাল বিক্রিতে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, সিদ্ধ চাল নিতে অনেকেই অনিহা প্রকাশ করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
নাঙ্গলকোটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতে ডিলারশিপ বাতিল
 
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগে ডিলারশিপ বাতিল করে গুদাম সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ১০টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে নিযুক্ত ডিলার শহিদুল ইসলাম চাল বিতরণকালে প্রতি জনকে ২/৩ কেজি হারে ওজনে কম দেয়া হয়। এনিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে ডিলারের গুদাম সিলগালা করে ডিলারশিপ বাতিল করেন। এসময় ডিলার শহিদুল ইসলাম পালিয়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, ওজনে কম দেয়ার বিষয়ে সরেজমিনে তদারকি কাজে নিযুক্ত ট্যাগ অফিসারের নিকট অভিযোগ করা হলে তার ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ডিলারশিপ বাতিল করে গুদামে সিলগালা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
নেত্রকোনায় দুইজনের ডিলারশিপ বাতিল
 
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, হত দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রয় কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দুই জনের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। এরা হলেন- উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান ও হায়দার আলী।
 
নান্দাইলে ডিলারের গুদাম থেকে মজুদকৃত ৪৫ বস্তা চাল জব্দ
 
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে ডিলারের গুদাম থেকে হতদরিদ্রদের জন্যে ১০ টাকা কেজি দরের ৪৫ বস্তা মজুদকৃত চাল উদ্ধার করা হয়েছে।  নান্দাইল উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামীম আল ইয়ামীন গুদামের তালা ভেঙে বস্তা ভর্তি সরকারি চাল উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ চালের বস্তাগুলো থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্ত ডিলার মো. আসাদুজ্জামান নূরুল্লাহ পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্যে পুলিশকে নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় সেখানে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ দাতারাটিয়া বাজারের আশেপাশের শতাধিক বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।