রাঙামাটির বাঘাইছড়ির দুরছড়ি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে সব কয়টি দোকান পুড়ে গেছে। প্রায় তিন মাস ধরে পাহাড়ি আট লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে এই বাজারটি বন্ধ ছিল।
বাজারটি খুলে দেয়া নিয়ে গত এক মাস ধরে রাঙামাটিতে বসবাসরত বাঙালিরা মিছিল সমাবেশ ও ইউএনওর কাছে স্মারক লিপি প্রদানও করেছে। বাঙালিদের এই বাজারটি পুড়ে যাওয়ায় প্রায় তিনশো ব্যবসায়ী সর্বশান্ত হয়েছে।
দুপছড়ি বাজার কমিটির সভাপতি খাইরুজ্জামান অভিযোগ করেন, আজ দুপুর ১২টায় অজ্ঞাত দুই যুবক মোটরাসাইকেলে করে বন্ধ থাকা একটি দোকানে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের সব দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে চোখের সামনে তারা বাজারের দোকন পুড়ে যাওয়া দেখেন। বেলা দুইটার দিকে বাজারের ২২০টি দোকান পুড়ে যায়। দোকানগুলির মধ্যে ১৯০টি দোকান ছিল মুসলিম বাঙালির ও বাকি ৩০টি দোকানের মালিক ছিল হিন্দু বাঙলি। গত জুন মাসে পাহাড়ি নেতা গতি বাবু বাজারটি থেকে বাৎসরিক আট লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
দুরছড়ি বাজার কমিটির নেতারা জানান, প্রতি বছর এই বাজার থেকে দুই লাখ টকা চাঁদা পাহাড়িদের হাতে তুলে দেয়া হয়ে। চাঁদার অঙ্ক হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়ে তারা আট লাখ দাবি করে। এর জের ধরে পাহাড়িরা দুরছড়ি বাজারটি বন্ধ করে দেয়। অগ্নিকাণ্ডের পর বাঘাছড়ি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনারর পর পর সেখানে সেনাবাহিনীর লংগধু রিজিওনাল কমান্ডারের একটি টিম ছুটে যায়। রংগধু রিজিওনালের মেজর ফেরদৌস জাহান জানান, আগুনে প্রায় ২২০টি দোকান ও বসতি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এখনো কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রতস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরাধ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএসএস