মিঠাপুকুরে অপহরণে বাধা দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার ভোরে বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেছে অপহরণকারীরা। এ সময় তাদের মারধরে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত কাঞ্চু, তৈয়ব আলী, গোলাপী বেগম ও আফরুজা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে পলাশ নামে একজনকে আটক করেছে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গেনারপাড়া গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই গ্রামে ছয়টি বাদ্যকার পরিবার বাস করে। এসব পরিবারের মধ্যে কাঞ্চু মিয়ার কিশোরী মেয়েকে প্রায় সময় উত্ত্যক্ত করতো তিলকপাড়া গ্রামের বদিয়া মিয়ার বখাটে ছেলে পলাশ মিয়া (২৫)। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা কয়েকবার চেষ্টা করেও কোনো ফল হয়নি। ঘটনার দিন বুধবার রাতে ওই কিশোরী মেয়েটি প্রকৃতির সাড়া দিতে বাড়ির বাইরে বের হওয়া মাত্র বখাটে পলাশ পেছন থেকে জাপটে ধরে মুখ চেপে মেয়েটিকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার চিত্কারে আশ-পাশের লোকজন পলাশকে আটক করে। খবর পেয়ে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘটনাস্থলে চলে যায়। তারা জোর করে পলাশকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে, ব্যর্থ হলে সন্ত্রাসীরা বাদ্যকার পরিবারের ছয়টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। তারা বাড়ির গরু ও ধান-চাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় লোকজনকে বেধড়ক মারধর করে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন।
ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আহম্মেদ হোসেন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের দৃশ্য দেখি। পরে থানায় ফোন করলে, পুলিশ ঘটনাস্থল এসে পলাশকে আটক করে নিয়ে যায়।
কাঞ্চু মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করতো পলাশ। সে আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা বাধা দেই। এতে, তার লোকজন এসে আমাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়।
মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মহিনুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/এএন