সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রক্ষার জন্য অবিলম্বে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প ও উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
আজ রবিবার নগরীতে অনুষ্ঠিত র্যালী-পরবর্তী এক সভায় এই আহ্বান জানানো হয়।
তারা প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারেজকে বাংলাদেশের আশীর্বাদ উল্লেখ করে বলেন, এখানকার নদী তীরবর্তী মানুষজন পানি নিয়ে অনেক সমস্যায় ভুগছেন।
বক্তারা দাবি করেন, গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে চার বিলিয়ন ইউএস ডলার প্রয়োজন হবে, কিন্তু এ প্রকল্প থেকে বার্ষিক ৭ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা লাভ হবে। এতে ৫ বছরের মধ্যেই প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যয় উঠে আসবে।
‘রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ (আরআরএসপি)’ নামে নগরীর একটি সামাজিক সংগঠন চেম্বার ভবনে এই সভার আয়োজন করে।
আরআরএসপি সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান , মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলী বরজাহান, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদ, ওয়ার্কাস পার্টির দেবাশীষ প্রামানিক দেবু ও বাংলাদেশ মহিলা উদ্যোক্তা সমিতি স্থানীয় শাখার সভানেত্রী আনজুমান আরা বেগম বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা যায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ২৬ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত ধান উৎপাদন হবে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন হবে।
তারা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের নদীসমূহে বিপদসীমার ওপর দিয়ে যে পানি প্রবাহিত হয় তা হ্রাস পাবে। এতে সুন্দবনের প্রায় ৩৩ শতাংশ এলাকা লবণাক্ততার তীব্রতা কমবে এবং প্রায় ১১ হাজার হেক্টর ভূমিতে অতি কম লবনাক্ততা অঞ্চলে পরিণত হবে।
এই প্রকল্পের সুবিধার দিক উল্লেখ করে লিয়াকত আলী বলেন, এতে এ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং এর এক তৃতীয়াংশ জনগণ এই প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে লাভবান হবেন। বাসস।
ইত্তেফাক/এমআই