একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নবীগঞ্জের কুখ্যাত রাজাকার গজনাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি তদন্ত দল আজ সরেজমিনে তদন্ত কাজ শুরু করেছে। তদন্তকালে গ্রামবাসীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ মার্চ উপজেলার আতানগরী গ্রামের রইছ উল্লার স্ত্রী সুকুরি বিবি আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।
সাবেক চেয়ারম্যান গোলাপ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আলবদর, আলসামস ও রাজাকার বাহিনীর সংগঠক ছিলেন। সেসময় গোলাপের নেতৃত্বে দিনারপুর হাই স্কুল মাঠে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন স্থান থেকে যুবতি মেয়েদের ধরে এনে পাশবিক নির্যাতন করা হত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর বিকাল ৪টার দিকে গোলাপের নেতৃত্বে একদল পাকহানাদার বাহিনী সুকুরি বিবিকে তার বাড়ি থেকে ধরে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। পরে পাকহানাদার বাহিনী তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং আসামি গোলাপও তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ওই গ্রামের আরো অনেক নিরীহ নারীকে জোরপূর্বক ধরে ক্যাম্পে নিয়ে আসে এবং পাকহানাদার বাহিনী পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্তদলের প্রধান নূর হোসেনের নেতৃত্বে এই তদন্ত কাজ শুরু হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগ পাওয়ায় এর তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। -বাসস।
ইত্তেফাক/এমআই