পানি সংকটের সুরাহা নেই সেনপাড়া পর্বতায়

গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা কখন পানি আসবে। অবশেষে পানি আসে, কিন্তু পাত্র ভরার আগেই কলে পানির ধারা সরু হয়ে আসে। তারপর এক ফোঁটা, দু’ ফোঁটা করে পড়তে পড়তে থেমে যায়। মিরপুর সেনপাড়া পর্বতার একজন বাসিন্দা এভাবেই বলছিলেন পানির কষ্টের কথা।
 
জানা যায়, ছয় মাস ধরে এই এলাকায় ওয়াসার পানির স্বাভাবিক সরবরাহ নেই। এলাকাবাসী বলেন, বছরের পর বছর এই সমস্যা চলছে। অথচ ওয়াসার কার্যকর পদক্ষেপ নেই। পানির গাড়ির জন্য আবেদন জানালে পানি পেতে দু’দিন-তিন দিন সময় লেগে যায়।
 
সেনপাড়া পর্বতাসহ এলাকার কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কারো কারো বাড়িতে ওয়াসার পানির গাড়ি আসতে দেখা যায়। অনেক গলিতে পানির গাড়ি যায় না। সে ক্ষেত্রে পাইপ দিয়ে পানি সরবরাহের নিয়ম থাকলেও তা করা হয় না।
 
মিরপুরে প্রতিবছর কমপক্ষে তিন মিটার করে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এ কারণে বর্তমানে মিরপুর এলাকায় প্রায় অর্ধেক গভীর নলকূপের নির্ধারিত উত্তোলন ক্ষমতা এক-তৃতীয়াংশে নেমে গেছে। এছাড়া অবৈধ সংযোগ এবং চুরির কারণে পানির সমস্যা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈধ গ্রাহকদের ওপর। বৃহত্তর মিরপুরে ১০০টির মতো গভীর নলকূপ রয়েছে।
 
ওয়াসার একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিরপুর এলাকায় পানির সমস্যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পানির সংকট বেড়ে যায়।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে পানি সরবরাহ আগের মতো নিয়মিত হচ্ছে না। পাম্প থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পানি সরবরাহের লাইনে দেওয়ার কথা থাকলেও নিয়মিতভাবে তা মানা হয় না। কোনো দিন খুব সকালে কিছু সময়ের জন্য পানি ছাড়া হয়, কিন্তু সব বাড়িতে এ পানি পৌঁছায় না।
 
মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তফা কামাল নামের একজন বাসিন্দা বলেন, একাধিকবার ওয়াসাকে জানানর পরও কোনো সুরাহা হয়নি। কয়েক দিন ধরে এলাকার বাসিন্দারা ঠিক মতো গোসল করতে পারছে না।  মাঝে মধ্যে যা একটু পানি আসে তা টয়লেটের জন্য রেখে দিতে হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানিয়েছি। তবে কোনো সমাধান হয়নি।
 

ইত্তেফাক/এএন