'নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ'

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, '২০২১ সালের মধ্যে নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।'
 
মন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজিত 'নিরাপদ সুপেয় পানি: এসডিজি অর্জনে অগ্রগণ্যতা' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
 
খন্দকার মোশাররফ বলেন, 'মানুষের জীবনে নিরাপদ সুপেয় পানি প্রাপ্তি মৌলিক ও মানবিক অধিকার। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এর বিকল্প কিছু নেই।'
 
জনবহুল এ দেশে বিশুদ্ধ খাবার পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'সরকার সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করছে।'
 
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ ওয়ালী উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আক্তার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা'র বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি ড. এন. প্যারানিথারণ।
 
এ সময় মন্ত্রী বলেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে নিরাপদ খাবার পানির নিশ্চয়তা দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য পানির উৎস শতকরা ৮৭ ভাগ যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।'
 
নিরাপদ পানি নিশ্চিতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, 'বর্তমানে ৮০ ভাগ পানি ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে সরবরাহ করা হয়। আর ২০ ভাগ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে করা হয়। এ কারণে দেশের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পুরো দেশ এক সময় মরুভূমি হয়ে যাবে। এসব বিবেচনায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখন থেকে ৮০ ভাগ পানি ভূ-উপরিস্থ উৎস হতে সরবরাহ করা হবে। এরপরও পানির যদি প্রয়োজন হয় তাহলে ২০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে সরবরাহ করা হবে। এজন্য মেগা পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।'
 
ঢাকার আশপাশে অনেক খাল, ঝিল, জলাধার, পুকুর প্রভাবশালীরা দখল করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'যারা খাল, বিল, ঝিল, জলাধার, পুকুর দখল করে রেখেছে, সেগুলোর দখল ছেড়ে দিতে হবে। জনগণের বাঁচার জন্যই এসব সংরক্ষণ করা হবে।'
 
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে ইতোমধ্যে জাতীয় পানি নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক বিষয়ে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরী মনে করেন মন্ত্রী।
 
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও এনজিও প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। পরে মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সেমিনারের উদ্বোধন করেন। -বাসস।
 
ইত্তেফাক/এসএস