ফসলি জমিতে ইটভাটা ও পুকুর খনন কমছে ফসল উত্পাদন

গুরুদাসপুরে তিন ফসলি জমিগুলোতে যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠেছে অপরিকল্পিত ইটভাটা। পাল্লা দিয়ে চলছে পুকুর খননও। এতে  আশঙ্কাজনক হারে কমছে ফসলি জমি ও ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উত্পাদন।
 
উপজেলায় ১০টি ইটভাটা গড়ে উঠছে। ব্যক্তি স্বার্থে ইচ্ছামত এসব ইটভাটা গড়ে ওঠায় প্রায় পাঁচশ বিঘা তিন ফসলি জমিতে কোন ফসল-ই উত্পাদন হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর যাচাই বাছাই না করেই ছাড়পত্র দেওয়ায় ইটভাটার সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার হাঁড়িভাঙ্গা বিলসহ ছয়টি ইউনিয়নের বিলগুলোতে প্রায় পাঁচশতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে।
 
কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, প্রতিটি ইটভাটা গড়ে ৬ থেকে ৮ একর করে ফসলি জমি গ্রাস করছে। ফলে একর প্রতি গড়ে ৭৫ থেকে ৮০ মেট্রিক টন ফসল উত্পাদন কমছে। সেই সাথে হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।
 
গুরুদাসপুর পৌরসভার খামারনাচকৈড় মৌজার খোয়াড়পাড়া মহল্লায় প্রায় ৩ একর কৃষি (ধানী) জমিতে গড়ে উঠেছে নতুন ইটভাটা। ওই ভাটার অদূরে পর্যায়ক্রমে আরো ৭টি পুরোনো ইটভাটা রয়েছে। অপরদিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে ২ দশমিক ৭ একর কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে আরেকটি ইটভাটা। সব ক’টি ইটভাটাই কৃষি জমির ওপরে নির্মিত হয়েছে। এসব ইটভাটার চার দিকে ধান খেত, অসংখ্য গাছপালাসহ ঘনবসতি রয়েছে।
 
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কর্মকর্তারা ইটভাটা এলাকায় এলে কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন। তারপরও ইটভাটার মালিকরা প্রভাবখাটিয়ে চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে ফসলি জমিতে গড়ে তুলছে ইটভাটা।
 
এ ব্যাপারে ইটভাটার মালিকরা জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর, নাটোর জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে জানিয়েই ইটভাটা নির্মাণ করেছেন।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইয়াসমিন আক্তার বলেন, কৃষি জমিতে ইটভাটা বা পুকুর খননের সুযোগ নেই। কেউ পুকুর করতে চাইলে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন করতে পারেন। কিন্তু হাঁড়িভাঙ্গা বিলে পুকুর খননকারীরা অনুমোদন নেননি। তত্ক্ষণিক পুকুর খনন বন্ধ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে এলাকায় অবগতমূলক মাইকিংও করা হয়েছে।
 
হাঁড়িভাঙ্গা এলাকার কৃষকরা জানান, বিল এলাকায় কমপক্ষে ৫০টিরও বেশি পুকুর খনন করা হয়েছে। তার মধ্যে ফিরোজ তালুকদারের ১৪ বিঘা ও ছয়বিঘা আয়তনের দুইটি, নজরুল ইসলামের ১২ বিঘা, ফজলুর রহমানের ১২ বিঘা, মিজানুর রহমান তালুকদারের ১০ বিঘা আয়তনের কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হয়েছে। কমবেশি অন্য প্রভাবশালী জমির মালিকরা পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছেন।
 
পুকুর মালিকরা জানান, বর্তমানে ধান চাষ করে তারা লাভবান হচ্ছে না। অধিক লাভের জন্য তারা পুকুর খনন করে মাছ চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা যাবে না-এমন নীতিমালা তাদের জানা নেই। তা ছাড়া উপজেলা জুড়েই হাজার হাজার পুকুর খনন করা হচ্ছে।
 

ইত্তেফাক/এএন