আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চলে এসেছে। ক্রিকেটের পিছু পিছু সমুদ্রে ঘনীভূত নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিও চলে এসেছে!
গতকাল সকাল থেকে মুখ কালো করে থাকা আকাশ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপহার দিলো। শেষ বিকালে সে বৃষ্টি বেশ ঝড়ো হাওয়া নিয়ে মুষলধারেও পড়লো। বৃষ্টিতে বানচাল হয়ে গেলো বাংলাদেশের অনুশীলনও। তারপরও আজ থেকে বৃষ্টি এড়িয়ে আরও একটা অসাধারণ টেস্টের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। স্বপ্ন দেখছে চট্টগ্রামের ২২ রানের দূরত্ব ঘুচিয়ে একটা জয়ের।
নতুন চেহারায় উজ্জীবিত এই বাংলাদেশ দল আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু করবে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। খেলা প্রতিদিনই শুরু হবে সকাল ১০টা থেকে।
চট্টগ্রাম টেস্টের আগে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের দূরত্ব ছিল আকাশ ও পাতাল। দু দল ওয়ানডেতে এখন কাছাকাছি শক্তির দল; বাংলাদেশ নিয়মিত হারাচ্ছে ইংল্যান্ডের, অল্পের জন্য ওয়ানডে সিরিজটা হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু টেস্টে চিত্রটা আলাদা ছিল। ইংল্যান্ড বড় দল, নিয়মিত টেস্ট খেলছে। আর বাংলাদেশ টেস্টে এখনও নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি, চট্টগ্রাম টেস্টের আগে ১৫ মাস তারা টেস্ট খেলেনি। ফলে দূরত্ব ছিল। এই দূরত্ব ঘুচিয়ে আজ ঢাকা টেস্টে দু দলকে প্রায় এক কাতারে নিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম টেস্ট।
ইংল্যান্ডের সাথে প্রায় পাঁচ দিন ধরে হাড্ডাহাড্ডি লড়েছে বাংলাদেশ। কখনো কখনো শ্রেয়তর দলই মনে হয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি টেস্টে কঠিন কাজের একটা, ২৮৬ রানের লক্ষ্যে লড়তে গিয়েও কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এই লড়াই বাংলাদেশের টেস্ট দল নিয়ে সারা পৃথিবীকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকও বলেছেন, বাংলাদেশকে তারা অনেক গুরুত্বের সাথেই নিচ্ছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও বলেছেন, চট্টগ্রাম টেস্ট তাদের অনেক আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, ‘আল্লাহর রহমতে ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, অবশ্যই আত্মবিশ্বাস আছে। তবে বড় ব্যাপার হলো, আমি সবসময়ই বলেছি, টেস্ট ক্রিকেটেও আমরা যেন ধারাবাহিক হতে পারি। সেদিকেই আমাদের মনোযোগ। শুরুটা ভালো হয়েছে। চট্টগ্রাম যেভাবে শেষ করেছি, সেখান থেকেই এখানে শুরু করতে চাই।’
এই টেস্টেও দু দলই মনে করছে, স্পিন সহায়ক উইকেটই হবে। তবে বৃষ্টির ফলে কিছুটা বদলে যেতে পারে উইকেটের চরিত্র।
তবে উইকেট যেমনই হোক, দু দলেই কিছু পরিবর্তন নিশ্চিত। ইংল্যান্ড জানিয়ে দিয়েছে তাদের দলে দুটি পরিবর্তন হবে। স্টুয়ার্ট ব্রডের শততম টেস্ট এখানে খেলা হচ্ছে না। তার বদলে কাল খেলবেন স্টিভেন ফিন। আর গ্যারেথ ব্যাটির বদলে অভিষেক হবে স্পিনার জাফর আনসারীর।
এদিকে বাংলাদেশ দলে সর্বশেষ একাদশে থাকা পেসার সফিউল স্কোয়াডেই নেই ইনজুরিতে। তার বদলে কে খেলবেন, তা নিয়ে আছে অনেক জল্পনা। গতকাল পর্যন্ত ধারণা ছিল, শুভাগত হোমকে যোগ করা হবে তার বদলে। মানে এক পেসার নিয়ে স্পিনার ও ব্যাটিং ডেপথ আরো বাড়ানো হবে। কিন্তু বৃষ্টিতে একটু স্যাঁতসেতে উইকেটের শঙ্কায় এখন আবার আলোচনায় আছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার সৌম্য ও নতুন পেসার শুভাশীষ।