হরিপুর জমিদার বাড়িকে সংরক্ষিত পুরার্কীতি ঘোষণা

নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর জমিদার বাড়িকে সংরক্ষিত পুরার্কীতি ঘোষণা করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
 
১৭৫ বছরের প্রাচীন জমিদার বাড়িটির ঐতিহাসিক নিদর্শন বিবেচনা করে সংরক্ষিত পুরার্কীতি হিসেবে ঘোষণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলতাফ হোসেন গত ১৭ অক্টোবর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অনুরোধ জানান।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ সংরক্ষিত পুরার্কীতি  ঘোষণার কথা স্বীকার করে জানান, হরিপুর জমিদার বাড়িটিকে সংরক্ষিত পুরার্কীতি ঘোষণার জন্য একান্ত প্রচেষ্টা মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের।
 
প্রায় ১৭৫ বছর আগে জমিদার গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরী ও কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটির নির্মাণশৈলী খুবই মনোরম। বাংলা ১৩৪৩ সালের ১২ চৈত্র কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরীর মৃত্যুর পর পর্যায়ক্রমে বাড়িটির উত্তরাধিকার হন হরিপদ রায় চৌধুরী ও শান্তি রায় চৌধুরী। তাদের কাছ থেকে বাড়ির মালিকানা ও জমিদারি আসে উপেন্দ্র রায় চৌধুরী ও হরেন্দ্র রায় চৌধুরীর কাছে। কালক্রমে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্ত হওয়ার পর জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে তারা বাড়িটি ফেলে কলকাতায় চলে যান। জমিদাররা বাড়িটি ফেলে যাওয়ার সময় পুরোহিতদের রেখে যান। উপজেলার হরিপুর গ্রামে তিতাস নদীর পূর্ব প্রান্তে অবহেলা অযত্ন আর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটিকে অবশেষে মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এমপির প্রচেষ্টায় সংরক্ষিত পুরার্কীতি ঘোষণা করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এ বাড়িটিকে কেউ বলে রাজবাড়ি, বড়বাড়ি আবার কেউ বলে জমিদার বাড়ি। বর্তমানে এটা অর্পিত সম্পত্তি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক লোক আসেন বাড়িটি দেখতে।
 
নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫কি.মি দূরে হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামে এই বাড়িটির অবস্থান। নাসিরনগর থেকে মাধবপুর যাওয়ার পথে উপজেলার শেষ সীমান্তে হরিপুর গ্রামের রাস্তার পশ্চিম পাশে তিতাস নদীর পাড়ে চোখে পড়ার মতো দুই গম্বুজের তিনতলা সুবিশাল বাড়িটি।
 
ইত্তেফাক/এএন