উন্নয়ন অন্বেষণের পর্যালোচনা

রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি কমছে, বাধাগ্রস্ত হবে উন্নয়ন

 
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনীতিতে কর-জিডিপি অনুপাতও কমছে। এ ধরনের পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের জোগানকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
 
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দেখায় যে, ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হারে হ্রাসমান প্রবণতা লক্ষণীয়। যেখানে ২০১১-১২ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল, সেখানে তা পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে কমে গিয়ে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ২, ১০ দশমিক ৪, ১৩ দশমিক ৫ ও ১৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসে। এ ছাড়া দেশে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ২২ শতাংশ পর্যন্ত হলেও বস্তুত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে।
 
অর্থাৎ গত চার অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপির অনুপাতে গড় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ১১ শতাংশে দাঁড়ায়। যেখানে একই সময়ে গড় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ভারতে ২০ শতাংশ, নেপালে ১৯ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৪ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ১৩ শতাংশ।
 
সর্বশেষ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ দেখায় যে বর্তমান অর্থবছরে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম মাসে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৯ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। বিগত অর্থবছরগুলোতে রাজস্ব আদায়ের প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছে। জিডিপির অনুপাতে মোট কর রাজস্ব আদায় ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে হ্রাসমান উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর-জিডিপি অনুপাত ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ হয়। একই সময়ে মোট কর রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ, ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ও ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ হয়। অন্যদিকে কর বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ঋণাত্মক ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ ও ঋণাত্মক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হয়।
 
এদিকে জাতীয় বাজেটে আয়কর থেকে সর্বাধিক রাজস্ব আদায়ের কথা বলা হয়ে থাকলেও তা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আয়কর থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধিও ক্রমহ্রাসমান। আয়কর থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির হার ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলেও তা পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে অর্থাৎ ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে নেমে আসে।
 
মূল্য সংযোজন কর আদায়ের প্রবৃদ্ধিতেও সাম্প্র্রতিক সময়ে কিছুটা কমতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় ও আমদানি উভয় স্তরের মূল্য সংযোজন করের প্রবৃদ্ধি ২০১১-১২ অর্থবছরের ১৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১২ দশমিক ১১ শতাংশ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ হয়। এ অবস্থায় কর প্রশাসনকে অধিকতর শক্তিশালী ও কার্যকর করার তাগিদ দিয়ে নতুন করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের কর প্রদানের বিনিময়ে সরকার কর্তৃক দেশে সামাজিক পরিসেবা প্রদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।