শান্তিরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী শান্তি রক্ষা, সাধারণ মানুষের সুরক্ষা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শান্তিরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বাহিনীতে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নতমানের উপকরণ সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
 
মন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে শান্তিরক্ষার মুখ্য উদ্দেশ্য সম্পাদন ও এই বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত উপকরণ সরবরাহে গুরুত্ব দিতে হবে।
 
শনিবার দিবাগত রাতে এক বার্তায় জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে ‘পিসকিপিং ইন ফ্রাঙ্কোফোন এনভায়রনমেন্ট ফ্রঞ্জ ভাষাভাষি অঞ্চলে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
 
ফ্রান্স আয়োজিত এই সম্মেলনে কো-চেয়ার ছিল বাংলাদেশ, কানাডা, জার্মানি ও সেনেগাল। 
 
ফরাসী ভাষাভাষি অঞ্চলে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মাহমুদ আলী সংঘাত কবলিত অঞ্চলে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আগামী দিনে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
 
সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে শান্তিরক্ষা সম্পর্কিত জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হারভে নাডসুস, ফ্রান্স ও কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফরাসী ভাষাভাষি অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
 
বিশেষ করে এসব অঞ্চলে যথাযথভাবে দায়িত্বপালনের লক্ষ্যে ফরাসী ভাষা শিখতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন আন্ডার সেক্রেটারি।
 
একই দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের এক পর্যায়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে উভয়ে একে অপরকে এই সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন। 
 
কমনওয়েলথ বিষয়ক বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী জুইসি এ্যানেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 
 
পরে একই দিন বাংলাদেশ, ফ্রান্স, কানাডা ও সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। মন্ত্রী পর্যায়ের ২০ প্রতিনিধিদলসহ প্রায় ৬০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এ সম্মেলনে যোগ দেয়।
 
এর আগে ২৬ অক্টোবর বিষয়ভিত্তিক ৪টি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে একটি ‘ফোর্স জেনারেশন’ শীর্ষক বৈঠকে কো-চেয়ার ছিল বাংলাদেশ। 
 
বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেনেন্ট জেনারেল সাব্বির আহমেদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মিস সাদিয়া ফাইজুন্নেসা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।- বাসস।