ভ্যাট ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে ভোগান্তি

ভ্যাট ইস্যুতে ঢাকা মহানগরীতে বেশিরভাগ জায়গায় ব্যবসায়ীরা গতকাল সারা দিন দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করেছে। রাজধানীর পুরনো ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজার, ইমামগঞ্জ, নবাবপুর, বংশাল, সদরঘাটসহ প্রায় সব এলাকার মার্কেট বন্ধ ছিল। এছাড়া গুলিস্তান, পল্টন, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ, নিউ মার্কেট এলাকা, গুলশান, উত্তরা ও মিরপুরেও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল বসুন্ধরা সিটি মার্কেট। ফলে এসব মার্কেটে এসে ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিপাকে পড়েছেন পুরনো ঢাকার পাইকারি ও খুচরা মালামালের ওপর নির্ভরশীল অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও। ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের ডাকে পালন হওয়া ওই ধর্মঘটে গতকাল প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আন্দোলনকারী ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে তাদের দাবি না মানা হলে এর পর টানা ধর্মঘটসহ আরো বড় কর্মসূচিতে যাবেন। ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেব ইত্তেফাককে বলেন, স্বাধীনতার পর ব্যবসায়ীরা এই প্রথম স্বত:স্ফূর্তভাবে ধর্মঘট পালনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ২০ নভেম্বরের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি মানা না হলে আরো বড় কর্মসূচি পালনের জন্য ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত।
 
নতুন ভ্যাট আইনে প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থাকে স্থায়ী করা, প্যাকেজ ভ্যাট পূর্বের ন্যায় ১৪ হাজার টাকা করা, ৩ শতাংশ ভ্যাটের টার্নওভার (বার্ষিক বিক্রি) সীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত করা, স্বল্পমূল্যের জুতা, রুটি-বিস্কুট ও গামছাজাতীয় পণ্যদ্রব্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এছাড়া নতুন ভ্যাট আইন পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের দাবিও ব্যবসায়ীদের। ইস্যুটি নিয়ে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েক দফা বৈঠকের পরও কোনো সুরাহা হয়নি।
 
ধর্মঘট উদ্দেশ্যমূলক:এনবিআর চেয়ারম্যান
 
ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটকে উদ্দেশ্যমূলক ও জনবিরোধী বলে মনে করছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। গতরাতে ইত্তেফাককে তিনি বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেখানে এ ধরনের ধর্মঘট দু:খজনক ও উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে করছি।
 
ইত্তেফাক/এএন