আটঘরিয়ায় পা দিয়ে লেখে জেএসসি পরিক্ষা দিচ্ছে মিরাজুল

সবাই লেখে হাত দিয়ে। কিন্তু পাবনার আটঘরিয়ার মিরাজুল ইসলাম লেখে পা দিয়ে। জন্মগতভাবে তার দুটি হাত নেই।
 
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় উপজেলার দেবোত্তর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে তাকে। 
 
আটঘরিয়া উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে ও চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মিরাজুল ইসলাম। তারা দুই ভাই এক বোন। বড় ভাই সূর্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে এখন বাবার সঙ্গে যাত্রাপুর বাজারে একটি ছোট ব্যবসা করেন, ছোট বোন মুক্তা ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। 
 
প্রতিবেশীরা জানান, মিরাজুল ইসলাম দরিদ্র পরিবারের ছেলে, সম্পত্তি বলতে শুধু বাড়িটি আছে। বাবা তোরাব আলী ছোট একটি মুদি দোকান দিয়ে সংসার চালান।
 
মা সূর্যা খাতুন বলেন, ২০০৩ সালের ২৪ জুলাই মিরাজুল ইসলাম বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম হয়। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুইজনেই লেখাপড়া জানি না। অভাব অনটনের মধ্যে সন্তানদের লেখাপড়া শেখাচ্ছি।
 
তিনি জানান, মিরাজুল হাত না থাকলেও সব কাজ নিজেই করতে পারে। ফুটবল খেলতে পারে। মুঠোফোন রিসিভ ও কল করতে পারে।
 
যাত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম হোসেন জানান, ২০০৮ সালে মিরাজুল এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। তখন থেকেই ওর পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে আমি আশ্চর্য হই। দেখলাম সে পড়ায় ভালো, স্মরণশক্তি প্রখর। তাই ভাবলাম পড়ায় ভালো হলে কেন লিখতে পারবে না। তাই ওর ডান পায়ের দুই আঙ্গুলের ফাঁকে চক আটকিয়ে দিয়ে লেখার তালিম দিই।
 
চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী বলেন, মিরাজুল লেখাপড়ায় অত্যন্ত ভালো। ওর লেখাপড়ার প্রতি আমরা বিশেষ নজর রাখছি।
 
ইত্তেফাক/ইউবি