নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি

এক সময়ে জাতীয় পার্টির ঘাটি হিসাবে পরিচিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় পার্টি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক ও দলীয় কোনো কর্মকাণ্ড পালন করা হয়না এখানে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর সংসদ (জাতীয়) নির্বাচনে সৈয়দপুর- কিশোরগঞ্জ ৪ আসনে বিনাভোটে নির্বাচিত হয় জাতীয়পার্টির মনোনিত প্রার্থী আলহাজ্ব শওকত চৈীধুরী। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নেতা কর্মীরা মুল্যায়িত না হওয়ায় আরো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জাতীয় পার্টি।
 
দলীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পর উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে একলা চলো নীতিতে চলছেন এম পি শওকত চৈীধুরী। দলীয় কোন কর্মকাণ্ডে ডাকা হয়না নেতাকর্মীদের। এমনকি দুটি জাতীয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এবং ২৬ শে মার্চ  মহান স্বাধীনতা দিবসেও শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসে না পার্টির এমপি শওকত চেীধুরী। ফলে এ দলের নেতারা নিস্ক্রিয় সময় পার করছে।
 
এনিয়ে দলের ভিতরে ও বাইরে নেতাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দলের ত্যাগী নেতারা এমপির কাছে নিস্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করতে বারবার ধর্না দিলেও তিনি কর্ণপাত করেননি। তিনি দলীয়ভাবে বরাদ্দকৃত টি আর কাবিখার চাল, গম, ডিও লেটারের মাধ্যমে ব্যাবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ১০ কোটি টাকা পকেটস্ত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলের নেতা কর্মীরা। এছাড়াও দরিদ্র ফাণ্ডের টাকা, কলেজ মাদ্রাসায় জামাত বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
 
উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম বলেন, এমপি শওকত চৈৗধুরীর একলা চলার কারনে জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা একেবারেই নিস্ক্রিয়। নেতা কর্মীদের সক্রিয় করতে এমপির কাছে কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। তিনি সাড়া দেননি। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি হয়ে বিএনপি জামাত ও বিএনপি নেতাদের নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন বেশি ।
 
উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক আলম হোসেন ও সাংগাঠনিক সম্পাদক দুলাল হোসেন বলেন, দলকে শক্তিশালি করার জন্য এমপির কাছে কয়েকবার গিয়েছি কিন্তু তিনি সাড়া দেন না। তাছাড়া তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করলে টি আর কাবিখার চাল, গম ডিও এর মাধ্যমে বিক্রি করতে পারতেন না। তাই তিনি নেতা কর্মীদের এড়িয়ে চলেন।
 
উপজেলা জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক তুহিন মিয়া, শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন, উপজেলা যুবসংহতির সভাপতি সাইদুর রহমান, সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির নেতা মাসুদ রানা, রফিকুল আলম, লেবু মিয়া তারা সবাই উল্লেখিত দুর্নীতি ও দলীয় কর্মকাণ্ডের বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে তারা দলের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
 
নীলফামারী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জাফর ইকবাল সিদ্দিকির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা শওকত চৌধুরীর বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে আমাকে জানিয়েছে। আমি বিষয়গুলো পার্টির প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ (স্যার)কে জানাব।
 
এ ব্যাপারে এমপি শওকত চৌধুরীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর  উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা যে অবস্থানে আছে তা আগে ছিলনা। দলের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ উপজেলায় জাতীয় পার্টি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে দুটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়লাভ করেছে। বাকিটা আগামী নির্বাচনে বোঝা যাবে।
ইত্তেফাক/এএন