কুষ্টিয়ার মিরপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক স্কুল শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা ছিনতায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১ টার সময় কুষ্টিয়া মেহেরপুর সড়কের মিরপুর উপজেলাস্থ্য চেয়ারম্যান সড়ক নামক স্থানে। ঘটনার শিকার শিক্ষকের নাম সিলিয়া মাসুদ (৪৫)। সে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি ওই গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের পুত্র।
জানা যায়, শিক্ষক মাসুদ ওইদিন উপজেলার মশান বাজারের রুপালী ব্যাংক শাখা থেকে তাঁর ও প্রধান শিক্ষকের মাসিক বেতন ৪৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে একাই মোটর সাইকেলযোগে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে উল্লেখিত স্থানে পৌছলে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস তাঁর মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে। পরে তার কাছে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মোটর সাইকেলের কাগজ দেখতে চায়। এ সময় শিক্ষক মাসুদ সরল বিশ্বাসে কাগজ বের করতে উদ্যত হওয়া মাত্রই মাইক্রোবাস থেকে দুজন নেমে এসে তাকে জোর করে গাড়িতে উঠিয়ে নেয়। কোরো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। গাড়িতে তুলেই ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ৮/১০ কিঃমিঃ দুরে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের কদমতলা নামক স্থানে ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
অন্যদিকে এই ঘটনার ৪দিন আগে গত ৩০ অক্টোবর দুপুরে পৃথক ঘটনায়, মিরপুর থানার একশো গজের মধ্যে পালপাড়া ব্রীজের কাছে পার্শ্ববর্তী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থীর পথরোধ করে ডিবি পুলিশ পরিচয়ধারী পালসার অনটেস্ট মোটর সাইকেলে আসা ৩ ব্যাক্তি। পরে তাঁরা ওই ৫ শিক্ষার্থীকে ‘তোরা মোবাইলে মেয়েদের ইভটিজিং করিস’ বলে ভয় দেখিয়ে ৫ শিক্ষার্থীর কাছে থাকা ৫টি মোবাইল নিয়ে চলে যায়।
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার উভয় ঘটনায় প্রতারিতরা মিরপুর থানাকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে এমন প্রতারনার ঘটনায় উপজেলার জনসাধারণ চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএন