একদিকে উচ্ছেদ আরেকদিকে বেদখল হচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদীর উভয় তীর। বিশেষ করে পুরান ঢাকার সদরঘাটের লালকুঠি ও শ্যামবাজার এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধটি বেদখল হয়ে গেছে। বাঁধের উপর বসান হয়েছে কাঁচাবাজার। সবজির দোকান ও আড়ত্। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, শীঘ্রই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তাটি উদ্ধার করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদরঘাটের পর লালকুঠি থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত বিশাল এলাকা বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে কাঁচামালের শতাধিক দোকান বসান হয়েছে শহর রক্ষাবাঁধের উপর। গড়ে তোলা হয়েছে ফলের দোকান, মাছ বাজার, কাঠ, বাঁশ, গজারি খুঁটির দোকান ও কাঁচামালের আড়ত্। প্রতিদিন অসংখ্য পাইকার এখানে আসছেন কেনাকাটার জন্য। ফলে যানজট ও ভিড় আরো বাড়ছে।
সদরঘাট থেকে নদীর পাড় ধরে আসা রাস্তাটি শ্যামবাজার ও লালকুঠি এলাকায় এসে থেমে গেছে। রাস্তাটি দখল করে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রাস্তা দখল করে বসা একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তাদের প্রতিটি দোকান থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র কতিপয় কর্মচারী মাসোহারা আদায় করছেন। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
শ্যামবাজারে আসা একজন ক্রেতা বলেন, নদী রক্ষা বাঁধটি ধরে পোস্তগোলা যাওয়া যায়। কিন্তু রাস্তার উপর বাজার বসার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। একটা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। এতে করে পথচারীদের জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
পুরান ঢাকার একজন বাসিন্দা ইত্তেফাককে বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে শহর রক্ষা বাঁধের রাস্তাটি আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শ্যামবাজারের টনকে টন ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা নদীতে। ময়লা- আবর্জনা পচে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তিনি রাস্তাটি খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি নদী রক্ষায় নজরদারি বাড়ানরও আহবান জানান।
স্থানীয় আরেকজন ব্যবসায়ী জানান, আড়ত্দার ও কাঁচামালের ব্যবসায়ীরা এই রাস্তাটি দখল করে জনজীবনে সীমাহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। সঠিকভাবে রাস্তাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় রাস্তার উপর ময়লা ও আবর্জনা স্তূপ হয়ে থাকে। স্থানে স্থানে ময়লা পানি জমা হয়ে আছে। এসব দেখভালের যেন কেউ নেই।
এছাড়া এই এলাকায় ভোর সকালে ও রাতে প্রায়ই ছিনতাই এবং চুরির ঘটনা ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে সুত্রাপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, সুত্রাপুর থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। শ্যামবাজার ও লালকুঠি এলাকায় ছিনতাই ও চুরির ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগও করা হয়নি। তবে এলাকায় পুলিশি টহল ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
নদীর পাড় ও রাস্তা দখল করে বাজার বসানর ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক ইত্তেফাককে বলেন, নদীর পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করা সংস্থার একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, নদীর পাড় দখল করে বাজার বসান হয়ে থাকলে শিগগিরই তা উচ্ছেদ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএন