ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা সুপরিকল্পিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা সুপরিকল্পিত। চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রশাসনের দূরদর্শিতার অভাব ও উদাসীনতা এ হামলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার বিকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’ আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ জেলাসহ সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, নিপীড়ন, নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 
 
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নষ্ট রাজনীতির এক নতুন সংস্করণ। ২০০৫-এ সাঁথিয়ায়, ২০১২-তে ফটিকছড়ি, ২০১৪ সালে রামু-উখিয়া-পটিয়ার ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনবসতি, মন্দির ধ্বংসের জন্য ধর্মীয় অনুভূতি ক্ষুণ্নের অজুহাত বারবার ব্যবহার করা হয়। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং নাসিরনগর উপজেলার পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের অদূরদর্শিতার বিষয়ে তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিচার বিভাগীয় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করে অপশক্তি চিহ্নিতকরণ ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
 
সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. অজয় রায়, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টচার্য, অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি রণজিত্ কুমার সাহা, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, লতিফুল বারী হামিম প্রমুখ।
 
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান,  মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী  আলহাজ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এমপি বলেছেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনারা নির্ভয়ে থাকবেন। নাসিরনগরের এ হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে স্থানীয় গৌর মন্দির চত্বরে তিনি এ কথা বলেন। অন্যদিকে পুলিশ সদর দফতরের গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত টিম বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বাড়িঘরসহ মন্দির  পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও তারা কথা বলেন।
 
পাবনা প্রতিনিধি জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার পাবনা পৌরসভার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
 
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশব্যাপী হিন্দুদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ হামলার প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে গিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
 
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমায়াত নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের সাম্প্রতিক ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়। এর পেছনে সুপরিকল্পিত চক্রান্ত থাকতে পারে। এমন উসকানিতে সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিক্ষোভ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু  মন্দির, ঘরবাড়িতে হামলা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পেছনে কারা রয়েছে তাও খুঁজে বের করা দরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ