নওগাঁর ধামইরহাটে ঘুমন্ত আদিবাসী ভূমিহীনদের বাড়িঘরে হামলা, আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সোমবার (২৫মার্চ) মধ্য রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চৌঘাট কাগজকুটা গ্রামের পুকুর পাড়ে বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী ও মুসলিমরা নিজেদের ভূমিহীন দাবী করে ওই এলাকায় ৩৫টি টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করে। ৩৫টি পরিবারের মধ্যে ২০টি আদিবাসী পরিবার ও বাকি গুলো মুসলিম পরিবার। প্রায় দেড় মাস ধরে তারা ঘর গুলোতে বসবাস করতে থাকে।
গত রবিবার রাত ১টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের এক দল দুর্বৃত্ত ওই পুকুর পাড়ের ঘর গুলোতে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রায় ৪০টি ঘর ভাংচুর ও আগুন দেওয়া হয়। সন্ত্রাসীরা ধারালো হাসুয়া, কুড়াল, তীর ধনুক দিয়ে তাদের কুপিয়ে জখম করে। পরে পেট্রোল ছিটিয়ে ঘর গুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। লুট করে ঘরের জিনিসপত্র। এ ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েকজন আদিবাসী ভূমিহীন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক।
বর্তমানে ঘর হারানো মানুষ গুলো পুকুরের পাশে জাহাঙ্গীর আলমের নির্মাণাধীন মুরগী সেডে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে সোমবার (২৫ মার্চ) রাতে চৌঘাট খাসিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত দুলালী পাহান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ওই রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার প্রধান আসামী বস্তাবর গ্রামের আকতার হোসেনের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ হোসেন মিস্টার এবং চককালু গ্রামের মোতারফ হোসেনের ছেলে মহব্বত হোসেনকে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া গত সোমবার রাতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে ধামইরহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৫ পরিবারের মাঝে পাঁচ হাজার টাকা এবং প্রত্যেক পরিবারে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
আরো পড়ুন: নওগাঁয় ঘুমন্ত আদিবাসীদের ওপর আওয়ামী লীগ নেতার আগুন
এ ব্যাপারে ধামইরহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, ১২ জনকে এজাহার নামীয় এবং ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
ইত্তেফাক/অনি