শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

 
বাংলাদেশ সরকার প্রণীত সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় স্বল্প কার্বন নির্গমনকারী শিল্পায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে উল্লে­খ করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের শিল্প কারখানায় কাঁচামালের অপচয় হ্রাস, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াকরণের কৌশল বা থ্রিআর বাস্তবায়নে বহুমুখী কর্মসূচি ও প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তিনি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থ্রিআর কৌশল বাস্তবায়ন উপযোগী অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার তাগিদ দেন।
 
অস্ট্রেলিয়া সফররত শিল্পমন্ত্রী বৃহষ্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে ‘দশ বছর মেয়াদি থ্রিআর সম্পর্কিত হ্যানয় ঘোষণার আলোকে বিভিন্ন দেশে গৃহিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও বিশেষ অর্জন’ শীর্ষক কান্ট্রি প্রতিবেদন পর্যালোচনা অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন।
 
সপ্তম এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক থ্রিআর ফোরাম উপলক্ষে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এডেলেইড কনভেনশন সেন্টারে এ অধিবেশনের  আয়োজন করা হয়। শিল্পমন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনহুই লি এর সঞ্চালনায় অধিবেশনে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কিরিবাতি, কিরগিস্তান, সামুয়া ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিরা পৃথকভাবে নিজ নিজ দেশের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এসময় বাংলাদেশের ওয়েস্ট কনসার্ণের নির্বাহি পরিচালক এ এইচ মো. মাকসুদ সিনহা আলোচনায় অংশ নেন। 
শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও উন্নয়নের সাথে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি জড়িত। দেশে শিল্পায়নের ধারা যতই জোরদার হবে, পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও তত বাড়বে। এ বাস্তবতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় থ্রিআর কৌশল প্রণয়ন করেছে। এর আলোকে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সহায়তায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরিতে পরীক্ষামূলকভাবে থ্রিআর কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ মোকাবেলায় বর্জ্য ব্যবহার করে বায়ু গ্যাস ও জৈব সার উত্পাদন, পরিবেশবান্ধব শিপ রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি উন্নত বিশ্বের আদলে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাখাতে লাগসই প্রযুক্তি হন্তান্তরের ওপর গুরুত্ব দেন।
 
ইত্তেফাক/এএম।