বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২’র সংধিধানের মূল কাঠামোকে ক্ষতবিক্ষত করে। যার পরিণতিতে রাজনীতিতে ফিরে আসে সেই সাম্প্রদায়িকতা, ঘৃণা আর প্রতিক্রিয়াশীলতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হয় পদদলিত।
শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির ডব্লিউ ভি এ মিলনায়তনে ‘৪৫ তম সংবিধান দিবস’ উপলক্ষে ‘৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, আজকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনীতির প্রয়োজনে ৭২’র সংবিধানে পুরোপুরি ফিরে যাওয়া যাচ্ছে না। একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের আবহ সৃষ্টি করে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, যে অন্ধকার আমরা পেরিয়ে এসেছিলাম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে। তাই আমাদেরকে বর্তমান সংকট উপলদ্ধি করতে হবে এবং ৭২’র সংবিধানে পুরোপুরি ফিরে না যাওয়া অবধি এ সংকট কাটবে না।
তিনি আরো বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাংখানুয়ায়ী ৭২’র সংবিধান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান। এ সংবিধানেই প্রথম ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করা হয়। ভারতের মতো দেশেও তা সংযোজন করা হয় ১৯৭৬ সালে, এ সংবিধানেই একটি শোষণহীন সমাজ সৃষ্টির প্রত্যয়ে সমাজতন্ত্রের কথা বলা হয়, ৭২'র সংবিধানেই ধর্মকে রাজনীতি থেকে পৃথক রাখার কথা ব্যক্ত করা হয়।
সংগঠনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যরিস্টার আমিরুল ইসলাম, সাবেক বিচার পতি শামসুদ্দিন হায়দার চৌধুরী মানিক, এড. রানা দাস গুপ্ত, শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।
ইত্তেফাক/ইউবি