আশিকের উদ্যোগ

 

বর্তমানে হাজারো উদ্যোক্তা আছে যারা মাছ চাষ, ফার্ম কিংবা অনলাইন সেবার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করছে। তবে সেখানে একটু ব্যতিক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান আশিক। যে কিনা কাজ করছে সমুদ্র উপকূলবর্তী আদিবাসী সম্প্রদায় কিংবা বাঘ বিধবাদের নিয়ে। আর এ বিষয়ে লিখছেন জি এম ইমরান হোসেন

প্রকল্পের বিষয়: প্রকল্পের নাম ইনিশিয়েটিভ ফর কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট (আইসিডি)। যেটা কিনা সুন্দরবনে মাছ, মধু ও কাঠ সংগ্রহ করতে যেয়ে যেসকল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়াল বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছেন তাদের বিধাব স্ত্রী এবং সন্তানদের ভাগ্যোন্নয়নে এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী মুন্ডা সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।

যেভাবে উদ্যোক্তা বনে যাওয়া: আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা আশিকুজ্জামান বলেন, প্রথমে আমি বাঘ বিধবাদের জন্য কিছু করার তাগিদে প্রতিষ্ঠা করি ইনিশিয়েটিভ ফর কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট (আইসিডি)। টিউশনির টাকা থেকে একটা অংশ ব্যয় করি আইসিডি সংগঠনে। ছোট পরিসরে চলতে থাকে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা কর্মকাণ্ড। প্রাথমিকভাবে ১০ জন বাঘ বিধবাকে সেলাই মেশিন দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। আমার এই কাজে এগিয়ে আসে ‘এলজি ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ’। এলজির কান্ট্রি ডিরেক্টর ডি কে সন বাঘ বিধবাদের কল্যাণে কাজ করার জন্য ৪ লাখ টাকা অনুদান দেন। আমি সেই অর্থ দিয়ে আরো ৩০ জন বাঘ বিধবাকে মাসব্যাপী দর্জি প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাঝে সেলাই মেশিন, সিট কাপড় ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করি। শুধু তাই নয়, আরো তিনজন বাঘ বিধবা চালের কুঁড়ার ব্যবসা ও গরু পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে আমাদের সহযোগিতায়। তাদের সহযোগিতায় উপকূলের ৩ হাজার স্কুল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ সম্পন্ন করেছি। “স্বপ্ন পাড়ি”র সহযোগিতায় শতাধিক মুন্ডা শিক্ষার্থী, বাঘ এতিম, এতিম, প্রতিবন্ধীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। মুন্ডা সম্প্রদায়ের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘বিরসা মুন্ডা প্রভাতী’ স্কুল। 

পরিচয়: খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার ৬নং কয়রা গ্রামের ছেলে আশিক। সরকারি  এম এম সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।