জান্নাতুল ফেরদৌস
আহসান হাবীব। স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছিলেন সাংগঠনিক নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন। সংগঠনপ্রিয় মানুষটির হাত ধরেই যাত্রা হয়েছিল ক্যাম্পাসের অনেক সংগঠনের। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বস্তুগত ও সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর অভাব ছিল। সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শুরু করতে স্ব-প্রণোদিত হয়ে গড়ে তুলেছিলেন সাংস্কৃতিক অবকাঠামো।
প্রগতিশীল চর্চায় ছিলেন বরাবরই সচেষ্ট। ছাত্রজীবনের অনেকটা অংশই ব্যয় করেছেন সাংবাদিকতা, আবৃত্তি, রোটার্যাক্ট, বিতর্ক, থিয়েটারসহ নানাবিধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। প্রান্তিক কণ্ঠচর্চা কেন্দ্র, মুহূর্ত থিয়েটার, রোটার্যাক্ট ক্লাব অব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি, প্রথম আঞ্চলিক সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর সূত্রপাত তার হাতেই। ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তার সঞ্চালনা ও আবৃত্তি ছিল নিয়মিত অনুষঙ্গ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম নির্বাচিত শ্রেণি প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালিত হয় তার ব্যবস্থাপনায়। সেই আয়োজনের কভারেজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রের করা প্রথম নিউজ। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় শহরে গিয়ে পত্রিকা অফিসে ফ্যাক্স করতেন নিউজ।
আহসান হাবীব কাজ করেন নিজস্ব বোধ, বিশ্বাস ও স্বপ্নের তাড়নায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কল্যাণ ও সংগঠনগুলোর খোঁজ-খবর নেওয়া ও পরামর্শ দানে এখনো সদা সোচ্চার তিনি। সংগঠন বোদ্ধাদের নিকট তিনি অণুপ্রেরণা ও শক্তির নাম।
ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগ ও সেখানে কাজের মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষে আমি মানুষকে অধিকতর জানার সুযোগ পেয়েছি। এই জানাই সমৃদ্ধ করেছে আমার চিন্তাজগেক, গড়ে তুলেছে এই ক্ষুদ্র আমাকে।