তিন ক্রিকেট কন্যার ‘টি-২০ ক্যাফে লাউঞ্জ’

  জান-ই-আলম

 

দেয়ালে ঝুলছে হেলমেট, ব্যাট। আরেকপ্রান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাফল্যের ছবি। নারী ক্রিকেটারদের সফলতার অনেক স্মারক, ট্রফিও শোভা পাচ্ছে। ক্রিকেটের আবহটা টের পেতে সময় লাগবে না যে কোনো অতিথির। এভাবেই ক্রিকেটকে ধারণ করে মিরপুরে গড়ে উঠেছে ‘টি-২০ ক্যাফে লাউঞ্জ’ রেস্টুরেন্ট। নামই বলে দিচ্ছে রেস্টুরেন্টটার সঙ্গে ক্রিকেট অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বাংলাদেশ জাতীয় নারী দলের তিন ক্রিকেটার মিলে গড়ে তুলেছেন এই রেস্টুরেন্ট। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক রুমানা আহমেদ, জাতীয় দলের ওপেনার আয়েশা রহমান শুকতারা ও একাধারে ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, উপস্থাপক সাথিরা জাকির জেসির সাহসী উদ্যোগ এই টি-২০ ক্যাফে লাউঞ্জ।

মোহাম্মদ আশরাফুলের সিচুয়ান গার্ডেন, সাকিব আল হাসা-ইমরুল কায়েসের ‘সাকিবস ৭৫’ ছাড়াও বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারই এখন খেলার পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়িয়ে গেছেন। পিছিয়ে থাকলেন না নারী ক্রিকেটাররাও। গত ৮ মার্চ নারী দিবসে উদ্বোধন হয়েছে তাদের এই রেস্টুরেন্ট। ক্রিকেটের পাশাপাশি কিছু করার চিন্তাতেই মিরপুর সাত সেকশনের ১ নম্বর রোডের ৭ নম্বর প্লটে (ইয়ান তাই চাইনিজের পাশে) একীভূত হয়েছে তিন ক্রিকেটারের স্বপ্ন। জানতে চাইলে রুমানা আহমেদ বলেছেন, ‘আসলে ক্রিকেটের পাশাপাশি কিছু করা উচিত। ক্রিকেট তো একটা সময় ছাড়তে হবে। আর নারী হিসেবে আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? অনেকেই এখন ব্যবসায় জড়াচ্ছে। আমাদের অনেক ভাইয়ারা করছেন। আমরাও কিছু করার চেষ্টা করলাম।’

খেলাধুলার মধ্যগগনে থাকতেই খেলোয়াড়দের ভাবতে হয় ক্যারিয়ার পরবর্তী সময় নিয়ে। সাথিরা জাকির জেসি বলছিলেন, ‘আমরা খেলাধুলা করি। খেলাধুলা তো একটা সময় শেষ হবেই। এখন খেলাধুলার পাশাপাশি অনেকেই ব্যবসায় জড়িয়েছে। আমরাও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার দিকে এগিয়েছি। আমাদের ছেলে ক্রিকেটারদের মাঝেও অনেকে করেছে।’

নিয়মতান্ত্রিক জীবন, বিশুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন খাবারই গ্রহণ করেন খেলোয়াড়রা। টি-২০ ক্যাফে লাউঞ্জেও অতিথিরা পাবেন স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের পরিবেশনা। রেস্টুরেন্টের খাবারের মান নিয়ে রুমানা আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা যেহেতু খেলোয়াড়, আমরা আসলে ভালোভাবেই বুঝি স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের গুরুত্ব কতটা, খাবারের মানটা কত বড় বিষয়। আমরা যেটা খেতে পারব, আমরা যেটা খাই খেলোয়াড় হিসেবে নিজেদেরকে ফিট রাখতে, ওই রকম মানসম্পন্ন খাবারই সবাই এখানে গেলে পাবেন।’

সাথিরা জাকির জেসিও জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য সচেতন মানুষরা এখানে খাবার গ্রহণ করে উপকৃত ও খুশি হবেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রাখার চেষ্টা করছি। এখানে ক্রিকেটাররা আসবে। ক্রিকেটাররা যেমন স্বাস্থ্য সচেতন, এখানে যারা আসবেন তারা একই রকম মানসম্পন্ন খাবার পাবেন। ঢাকা শহরে এখন অনেকেই বেশ স্বাস্থ্য সচেতন। আমরা মাছের আইটেম রাখছি, যেখানে ক্যালোরি কম। মানে স্বাস্থ্যসম্মত ভালো মানের খাবারের প্রতিই বেশি জোর দিয়েছি আমরা।’  টি-২০ ক্যাফে লাউঞ্জের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটকেও গণমানুষের কাছে তুলে ধরতে চান রুমানা-শুকতারারা। তাই রেস্টুরেন্টের শোভা বর্ধনে ব্যবহার করা হচ্ছে নারী ক্রিকেটারদের সাফল্যের মাহেন্দ্রক্ষণকে ফ্রেমে বন্দি করা ছবি।

সাথিরা জাকির জেসি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমাদের ডেকোরেশনটা আমরা একটু অন্যরকম করছি। ক্রিকেট বিষয়ক হবে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্রিকেট। আমাদের মেয়েদের ক্রিকেটের যত ঐতিহাসিক ছবি বলেন, কিছু ট্রফি থাকছে, এশিয়া কাপ জয়ের স্মারক যেমন স্ট্যাম্প, এমন অনেক কিছুই অনেক থাকছে। সৌন্দর্যবর্ধনের জায়গাটা ক্রিকেটের উপরই জোর দিয়েছি আমরা। আমরা যেহেতু ক্রিকেটার। মানুষ এখানে আসলে ক্রিকেটের একটা ছোঁয়া পাবে।’

দেশের অন্যসব ক্ষেত্রের মতো ক্রিকেটেও নারীদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এবার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় রুমানা-জেসি-শুকতারার উদ্যোগ আগামীতে এমন কিছু করার সাহস, প্রেরণা যোগাবে অন্য নারী ক্রিকেটারদেরও।