গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে দখলদার আদিবাসীসহ (সাওতাল) কতিপয় বাঙালিকে রবিবার সন্ধ্যা ৭ দিকে পুলিশ ও র্যাব এক যৌথ অভিযান চালিয়ে উচ্ছে করে দিয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, পুলিশ পাহারায় চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী রবিবার সকালে রংপুর চিনিকলের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাগদা-কাটা সংলগ্ন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমির আখ কাটতে যায়। কিন্তু খামারের জমি অবৈধভাবে দখল করে থাকা আদিবাসীসহ (সাওতাল) কতিপয় বাঙালি তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশ ও চিনি কলের শ্রমিক-কর্মচারীদের উপর তীর ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিআর সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় আদিবসীদের (সাঁওতাল) ছোড়া তীরে ৯ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২১ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ টিআর সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
ওসি আরো জানান, পরে বিকাল সাড়ে ৫ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে ওই জমিতে অবৈধভাবে এক চালা ঘর তৈরী করে দখল করে থাকা আদিবাসীসহ (সাওতাল) কতিপয় বাঙালীকে উচ্ছেদ করেছে।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে রোববার বিকেলে মুঠোফোনে দাবি করেন, পুলিশের গুলিতে তাদের চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এরমধ্যে একজনের মাথায়, একজনের কোমরে ও দুইজনের পায়ে গুলি লেগেছে।
সাহেবগঞ্জ ভুমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী সরকার জানান, আখ কাটার নামে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীরা আদিবাসিদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষ বাধে।
রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল মুঠোফোনে বলেন, চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় এক হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহন করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু দুইবছর আগে এসব জমি বাপ-দাদার দাবি করে আন্দোলনে নামে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা গত ১ জুলাই প্রায় ১০০ একর জমি দখলে নিয়ে একচালা ঘর নির্মাণ করে। ওইদিন থেকে তারা তীর-ধনুক নিয়ে জমি পাহারা দিচ্ছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, ১৯৬২ সালে জমি অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামায় বলা হয়, কখনো চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সেক্ষেত্রে ওইসব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে। অথচ এলাকার কতিপয় সুবিধাবাদি ব্যক্তির উস্কানিতে সাঁওতালরা অবৈধভাবে চিনিকলের জমি দখল করে।
এ প্রসঙ্গে ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, কারও উস্কানিতে আন্দোলন করা হচ্ছে না। চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে। সেখানে কখনো আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওইসব জমিতে ধান ও তামাক চাষ হচ্ছে। অথচ জমি ফেরত দেওয়া হয়নি। তাই দখলের ঘটনা ঘটে।
ইত্তেফাক/এএন