কারাগার থেকে বেরিয়ে লাপাত্তা দাউদ মার্চেন্ট

ভারতীয় সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব গুলশান কুমার হত্যা মামলার আসামি বহুল আলোচিত মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের ভাতিজা আব্দুর রউফ দাউদ মার্চেন্ট গত রবিবার বিকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তির পর থেকেই মার্চেন্টের অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বাংলাদেশে আছেন নাকি ভারতে চলে গেছেন, এমনকি কীভাবে তিনি চলে যান-সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।
 
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির জানান, দাউদ মার্চেন্টের মুক্তির আদেশের কাগজপত্র যাচাই বাছাই শেষে রবিবার বিকালে আব্দুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্টকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
 
সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তার কারাবাসের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। এজন্য তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগার থেকে মুক্তির পর মার্চেন্টের অবস্থান কোথায় তা স্পষ্ট করেননি মন্ত্রী। এমনকি ভারতের তরফ থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।
 
২০০৯ সালের ২৭ মে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের একটি বাড়ি থেকে আব্দুর রউফ দাউদ মার্চেন্ট আর তার আশ্রয়দাতা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাহিদ শেখকে ওই বছরের ২৯ মে গ্রেফতার করে। জাহিদ শেখ মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরেক মাফিয়া ডন ছোটা শাকিলের ঘনিষ্ঠ। দাউদ মার্চেন্ট ভারতের ‘মোস্টওয়ান্টেড’ অপরাধী। দাউদ মার্চেন্ট ও জাহিদ শেখকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ দুজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা হয়।
 
প্রসঙ্গত, ভারতের মুম্বাইয়ের সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমারকে ১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট আন্ধেরী এলাকার একটি মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ভাড়াটে খুনি হিসেবে দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেফতার করে ভারতীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ওই মামলায় ২০০২ সালে ভারতীয় আদালত দাউদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দাউদ। কারাগারে থাকা অবস্থায়ই পারিবারিক প্রয়োজনে ২০০৯ সালে ১৪ দিনের প্যারোলে মুক্তি পান মার্চেন্ট। মুক্তি পেয়েই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
 
ইত্তেফাক/এএন