ট্রাম্প ও হিলারি সম্পর্কে যা জানার আছে

 
* হিলারি ক্লিনটন বড় হয়েছেন ইলিনয়ের এক কনজারভেটিভ পরিবারে? বাবা ছিলেন পর্দা তৈরির কারখানার মালিক? তরুণ বয়সে হিলারি ছিলেন রিপাবলিকান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যারি গোল্ডওয়াটার ও রিচার্ড নিক্সনের মতো কনজারভেটিভ প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন তিনি ডেমোক্র্যাট হন পরে? সেই সঙ্গে তার চুলের কেয়ারিও বদলে যায়?
 
 
 
* উদারপন্থি ডোনাল্ড
 
গোড়ার দিকে ট্রাম্প যে কোন দলকে সমর্থন করেন। অথবা আদৌ কোনো দলকে সমর্থন করেন কিনা— তা বলা শক্ত ছিল। অতীতে তিনি বিল ও হিলারি ক্লিনটনসহ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তার সমর্থন দিয়েছেন, মাঝেমধ্যে রীতিমতো উদারপন্থি সব মন্তব্য করেছেন? ডোনাল্ড রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দেন প্রৌঢ় বয়সে, যা তার দলের সকলের খুব ভালো লাগেনি?
 
 
 
* বিলকে গোড়ায় ‘হ্যাঁ’ বলেননি হিলারি
 
হিলারি ক্লিনটনের নাম দুনিয়া প্রথম জেনেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে? অথচ বিল নাকি যখন প্রথম ‘প্রোপোজ’ করেন, তখন হিলারি তাকে ‘না’ বলেছিলেন। হিলারি তাকে বিয়ে করতে সম্মত হওয়ার আগে বিলকে বেশ কয়েকবার ‘প্রোপোজ’ করতে হয়েছিল।
 
 
 
* ওয়াল-মার্টের পরিচালকমন্ডলীর প্রথম মহিলা সদস্য
 
ওয়াল-মার্ট ঠিক শ্রমিকবান্ব কোম্পানি বলে পরিচিত নয়। তাদের প্রথম মহিলা বোর্ড মেম্বার হয়েছিলেন হিলারি ক্লিনটন। এমনকি এর বহু বছর পরে হিলারি ওয়াল-মার্টের একটি শাখায় তার আত্মজীবনী স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান করেন।
 
 
 
* অভিনেতা ট্রাম্প
 
রিয়াল এস্টেট দিয়ে শুরু করলেও, ট্রাম্প একাধিক ফিল্ম ও টিভি শো-তে আবির্ভূত হয়েছেন, তার মধ্যে সর্বাগ্রে ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’ শো-টির নাম করতে হয়। তিনি স্ক্রিন অ্যাক্টর্স গিল্ডের সদস্য ও ফিল্ম-টেলিভিশনে তার কাজের জন্য বছরে এক লাখ দশ হাজার ডলার পেনশন পেয়ে থাকেন। হলিউড ওয়াক অফ ফেম-এ তার ‘স্টার’ যোগ হয় ২০০৭ সালে।
 
 
 
* গরু চেনেন হিলারি
 
ছবিতে বিল ক্লিনটনকে দেখা যাচ্ছে গো-পরিদর্শক হিসেবে, কিন্তু হিলারিই আসলে গরু চেনেন। সত্তরের দশকের শেষে ‘ক্যাটল ফিউচার’ নিয়ে ফাটকা খেলে এক হাজার ডলারকে লাখ ডলারে পরিণত করেছিলেন হিলারি। কেউ কেউ এ-তে দুর্নীতির গন্ধ পেলেও, প্রসঙ্গটি নিয়ে হিলারির বিরুদ্ধে কোনোদিন কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
 
 
 
* কুস্তিগীরদের আখড়ায়
 
ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্টের বস ভ্যান্স ম্যাকমেহনের সাথে নাকি দীর্ঘদিনের কাজিয়া ছিল ডোনাল্ড  ট্রাম্পের। সেজন্য ট্রাম্পকে একাধিকবার রিং-এর ভিতরে দেখা গেছে। এমনকি রেসলিং-এর হল অফ ফেম-এও প্রবেশাধিকার পেয়েছেন তিনি।
 
 
 
* তেতাল্লিশ রকমের চুলের কেয়ারি
 
অ্যামেরিকার ফার্স্ট লেডি হিসেবে হিলারি তার সাজগোজের স্টাইল নিয়ে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ১৯৯৬ সালে ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ ম্যাগাজিন দাবি করে যে, হিলারি ক্লিনটন হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন ৪৩ রকমের হেয়ারস্টাইল দেখিয়েছেন?
 
 
 
* আসক্তি মাদকে নয়
 
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে থাকেন যে, তিনি কখনো মদ্যপান বা ধূমপান করেননি? কথাটা বিশ্বাসযোগ্য, কেননা যারা তাকে চেনেন ও তার সঙ্গে যাদের সাক্ষাত্ হয়েছে, সকলেই জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের কোনো ধরনের নেশা নেই। এক ক্ষমতার নেশা ছাড়া।
 
 
 
* শুচিবাই
 
ট্রাম্প আর ক্লিনটন যে তাদের দ্বিতীয় বিতর্কের আগে হাত মেলাননি, তা নিয়ে অনেক কিছু বলা ও লেখা হয়েছে? কিন্তু বাস্তব সত্য হলো এই যে, ট্রাম্প কারো সঙ্গে করমর্দন করতে পছন্দ করেন না, কেননা তার জীবাণু সংক্রমণের ভয় আছে, যেমন ছিল হাওয়ার্ড হিউস, মাইকেল জ্যাকসন ও অ্যাডলফ হিটলারের।
 
 
 
* গ্র্যামি বিজয়ী ক্লিনটন
 
অনেকের কানেই ক্লিনটনের কণ্ঠস্বর বিশেষ শ্রুতিমধুর নয়। তা সত্ত্বেও তিনি তার আত্মজীবনী ‘ইট টেকস এ ভিলেজ’ বইটির অডিও সংরক্ষণের জন্য ১৯৯৭ সালে বেস্ট স্পোকেন ওয়ার্ড পারফরমেন্সের গ্র্যামি লাভ করেন। প্রসঙ্গত, সেলিন ডিয়ন সে-বছর সেরা অ্যালবামের গ্র্যামি লাভ করেছিলেন।
 
 
 
* আইন-আদালত
 
ট্রাম্পের সবকিছুই একটু অতিরঞ্জিত, কাজেই তার বিচারবিভাগীয় কাহিনীই বা বাদ যাবে কেন? যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও প্রাদেশিক আদালতগুলো মিলিয়ে ট্রাম্প প্রায় সাড়ে তিন হাজার মামলায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
 
ইত্তেফাক/এএন