গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ-সাঁওতাল সংঘর্ষ, আরো এক লাশ উদ্ধার

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকার ধানখেত থেকে সোমবার রাতে আরও এক সাঁওতালের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। 
 
এরআগে রবিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সাঁওতাল শ্যামল হেমভ্রম (৩৫) দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। এনিয়ে পুলিশ ও সাঁওতালদের সংঘর্ষে দুই সাঁওতাল মারা গেলেন। 
 
গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্র জানায়, স্থানীয় জনগণ সোমবার রাত দশটার দিকে সাহেবগঞ্জ এলাকার ধানখেতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। 
 
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার মঙ্গলবার সকাল ১১টায় মোবাইলফোনে বলেন, লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়া মরদেহে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।  
 
এ প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে মোবাইল ফোনে বলেন, পুলিশের ছোড়া গুলিতে আমাদের মোট চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজনকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদেরকে গুম করা হতে পারে বলে আমরা আশংকা করছি। 
 
গত রবিবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
 
আহতদের মধ্যে তিরবিদ্ধ হয়েছেন ৯ জন পুলিশ সদস্য এবং গুলিবিদ্ধ হন ৪ জন সাঁওতাল। এই ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক কল্যান চক্রবর্তী বাদি হয়ে রোববার রাতে ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে সাড়ে ৩শ জনকে আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় আজ সকাল পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
 
প্রসঙ্গত, রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়াল মোবাইলফোনে বলেন, চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় এক হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। তখন থেকে এসব জমিতে উৎপাদিত আখ চিনিকলে সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু দুইবছর আগে এসব জমি বাপ-দাদার দাবি করে আন্দোলনে নামে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা গত ১ জুলাই এই খামারের প্রায় ১০০ একর জমি আবাদী জমিতে ছোট ছোট কুড়ে ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা চালায়। ইতোমধ্যে তারা সেখানে ধান ও মাসকালাই চাষ শুরু করে। ওইদিন থেকে তারা তীর-ধনুক নিয়ে জমি পাহাড়া দিচ্ছে। রবিবার চিনিকলের রোপন করা আখ বীজ হিসেবে সংগ্রহের জন্য কাটতে গেলে সাঁওতালরা বাধা দিলে এই ঘটনা ঘটে। 
 
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, ১৯৬২ সালে জমি অধিগ্রহণের সময় চুক্তিনামায় বলা হয়, কখনো চিনিকল বা খামার বন্ধ হলে সেক্ষেত্রে ওইসব জমি সরকারের কাছে চলে যাবে। অথচ এলাকার কতিপয় সুবিধাবাদি ব্যক্তির উস্কানিতে সাঁওতালরা অবৈধভাবে চিনিকলের জমি দখল করে। 
 
এ প্রসঙ্গে ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, কারও উস্কানিতে আন্দোলন করা হচ্ছে না। চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণের সময় জমির মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে। সেখানে উল্লেখ ছিল কখনো ওইসব জমিতে আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ওইসব জমিতে ধান ও তামাক চাষ হচ্ছে। অথচ জমি ফেরত দেওয়া হয়নি। তাই দখলের ঘটনা ঘটে। 
 
 
ইত্তেফাক/এমআই