বিনাবিচারে ১৭ বছর ধরে জেলে থাকার পর জামিন পেয়েছে রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শিপন। তার বিরুদ্ধে আনা মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন দেয় বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ। দুই মাসের মধ্যে তার মামলার নিষ্পত্তিরও আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে শিপনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি গত ৩০ অক্টোবর আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী কুমার দেবুল দে। বিষয়টি আমলে নিয়ে ওইদিন আদালত কারাবন্দী শিপনকে ৮ নভেম্বর হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
আদালতে শিপনের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট কুমার দেবুল দে। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ কে এম জহিরুল হক।
আইনজীবী কুমার দেবুল দে সাংবাদিকদের বলেন, ৬০ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার শেষ করতে হবে বলে আদালত আদেশে উল্লেখ করেছে। সেই পর্যন্ত শিপন জামিনে থাকবেন। যদি এ সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করা না যায় তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর শিপনের কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পুনর্বাসনের জন্য একটি আবেদন করতে বলা হয়।
উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে ১৯৯৪ সালে দুই মহল্লার মধ্যে মারামারিতে একজন খুন হন। এ ঘটনায় মো. জাবেদ বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন। মামলার দুই নম্বর আসামি মো. শিপন। এফআইআরে তার বাবার নাম ছিলো অজ্ঞাত। পরে চার্জশিটে তার বাবার নাম মো. রফিক দেয়া হয়। ঠিকানা ৫৯, গোয়ালঘটা লেন, সূত্রাপুর বলে উল্লেখ করা হয়। এ মামলায় ২০০০ সালের ৭ নভেম্বর গ্রেফতার হন শিপন। সে থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।বাসস
ইত্তেফাক/এমআর/এএম