তিনটি কাজে সফলতা না পেয়ে ‘অতৃপ্তি’ নিয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) মহাপরিচালক বিদায় নিচ্ছেন। এই তিনটি কাজ হলো সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে না আনা, মাদক পাচার বন্ধ না করা ও ফেলানি হত্যার বিচার না পাওয়া।
মঙ্গলবার বিজিবি সদর দফতরে শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদায়ী মহাপরিচালক লে. জেনারেল আজিজ আহমেদ এসব কথা বলেন। আগামী রবিবার নতুন মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব নিবেন মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, তার চার বছরের দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি’র সৈনিকদের জন্য কল্যানমূলক কাজ করেছেন। বিজিবি’র সৈনিকদের জন্য ৮০টি ফ্ল্যাট, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ৪৮টি ফ্ল্যাট, হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়দের জন্য ২০টি ফ্ল্যাট ও শিক্ষকদের জন্য একটি ১২ তলা ভবন নির্মান করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বিওপিগুলোর অবস্থা অনেক উন্নত করা হয়েছে। বিওপিতে ফ্রিজ, টিভি ও ক্যাবল সংযোগ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক বিওপি কমান্ডারদের বছরের শুরুতেই ৫ হাজার করে টাকা দেয়া হচ্ছে। অরক্ষিত ৫৩৯ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৩৩২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিওপি (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) স্থাপন করা হয়েছে। বাকি সীমান্ত এলাকায় আগামী জুন মাসের মধ্যে বিওপি স্থাপনের কাজ শেষ হবে। সুন্দরবনের ৭২ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত এলাকার মধ্যে ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ইতিমধ্যে টহল স্থাপন করা হয়েছে। সুন্দরবনে আরো একটি ভাসমান বিওপি স্থাপন করার মধ্য বাকি এলাকা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। বিজিবিতে খেতাবপ্রাপ্ত ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে বাড়ি নির্মান করে দেয়া হয়েছে। বিজিবিতে কর্মরত সৈনিকদের নির্ধারিত পাওনা ছোট ভোগ করার জন্য আগে থেকেই জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।
বিজিবিতে বিমান শাখা (এয়ার উইং) যুক্ত করার তথ্য জানিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, সীমান্তে এই চার বছরে ৩ হাজার ১৫ কোটি টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় দেড় লাখ অপরাধীকে আটক করা হয়েছে। এই চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ইয়াবা ও ১৬ লাখ ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে। নানা অপরাধে প্রায় ৭০ জন বিজিবি সদস্যকে চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, চেষ্টা করেও সীমান্তে হত্যার ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে পারেননি। সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালান বন্ধ করতে পারলে হত্যার ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।
ইত্তেফাক/এএম।