জলঢাকায় গতি নেই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীতে

নীলফামারীর জলঢাকায় গতি ফিরে পায়নি সরকার ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী বা ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ। ইউপি চেয়ারম্যানদের অসহযোগিতাই এর মুল কারন বলে উল্লেখ করছেন এ কর্মসূচীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনগণ।
 
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের প্রায় ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে শিমুলবাড়ী, খুটামারা ও গোলনা  ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ইউনিয়নগুলোতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু করা যায়নি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা হতদরিদ্রদের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসুচীর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের ১৫ দিনে মাত্র ২টি ইউনিয়নের এ কর্মসূচি চালু হয়েছে। উপজেলা খাদ্য অফিস সুত্রে জানা যায়, পৌরসভা বাদ দিয়ে ১১ টি ইউনিয়নে ২৫ হাজার ২০৩ জন হতদরিদ্রের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হবে। কিন্তু চেয়ারম্যানদের তালিকা প্রনয়নে অসঙ্গতি ও ডিলার নিয়োগে বিলম্ব হওয়ায় কর্মসূচি স্থবির হয়।
 
মঙ্গলবার সকালে খুটামারা ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ শামীম। সেখানে উপস্থিত উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, এ মাসের মধ্যেই বাকি ইউনিয়নগুলোতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী চালু করা হবে। ধীর গতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকায় অসংগতিপূর্ণ তালিকা সংশোধনের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানেদের বলা হয়েছে। তারা বারবার তালিকার বিষয়টি গুরুত্বআরোপ করায় দেরি হচ্ছে।
 
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান খোকন ও ধর্মপাল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জামিনুর রহমান জানান, স্বচ্ছতার জন্য তদন্ত করে কার্ড ইস্যু করতে দেরি হওয়াই বিলম্বের মূল কারণ। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল হক প্রধান। তিনি জানিয়েছেন, সরকার ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীতে কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
 
স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, খাদ্যবান্ধব এ সরকারের সফল একটি কর্মসূচী। এ কর্মসূচীকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করবে, তাদেরকে কোন অবস্থায় ছাড় দিবে না আমার সরকার।
ইত্তেফাক/এএন