ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বৈঠক

রিজার্ভ আছে, ব্যাংকে অর্থ আছে প্রভাব নেই বিনিয়োগে : এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে বাড়তে ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ব্যাংকেও আছে প্রচুর অলস অর্থ। দিনে দিনে এ অর্থের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু সেই হিসেবে দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে না। অথচ সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগও নিয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
 
গতকাল বুধবার রাজধানীর ফেডারেশন ভবনে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সফররত ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রতিনিধি দলের প্রধান ও সিআইআই ইআর ইনভেস্টমেন্ট টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান অরুণ মিশ্র এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
 
মাতলুব আহমাদ বলেন, সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নানা ধরনের সুযোগ দিয়েছে। তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে পারেন। এ ব্যাপারে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে। প্রয়োজনে অংশীদারির ভিত্তিতেও বিনিয়োগ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
প্রতিনিধি দলের প্রধান ও টাটা স্টিল লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অরুণ মিশ্র বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ভৌগোলিক যোগাযোগ অনেক বেশি। প্রতিবেশী এ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কও অনেক ভালো। সে হিসেবে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্য আরো অনেক বেশি হওয়ার কথা। সেজন্যই আমরা এখানে এসেছি। বাংলাদেশের কোন খাতে কীভাবে বিনিয়োগ করা যায় তা খুঁজে দেখা হবে। তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়ন ছাড়া ভারত এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই ভারতের সরকার ও উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগী হতে চায়।
 
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, আমেরিকার নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার তেমন আশঙ্কা নেই। কারণ বড় দেশগুলোর ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। তাছাড়া বারাক ওবামা সরকার থাকাকালেও আমরা জিএসপি পাইনি। তাই আমাদের হারানোর কিছু নেই। বরং সরকার পরিবর্তন হওয়ায় আমরা কিছু পেতে পারি কীনা তা ভেবে দেখা দরকার।
 

ইত্তেফাক/এএন