দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, নভেম্বরের ২-৫ তারিখে নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক এশিয়ান মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত “প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক ঢাকা ডিক্লারেশন গৃহিত হয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বিশ্ব সম্মেলন আয়োজন করা হবে।
শুক্রবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহন ও সফলতা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদ সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদল এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিল।
মন্ত্রী বলেন, কনফারেন্সে বাংলাদেশ দুর্যোগ ঝুঁকি ও জলবায়ু পরিবর্তন সহনশীল সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ সহনশীলতাকে সুসংহত করতে প্রত্যেক দেশকে এখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং আলাদা তহবিল গঠন করতে বলেছে। বিশেষত সকল উন্নয়ন অংশীদার, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি ও সহায়তা আরও জোরদার করতে বলেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভূক্ত করছে। বিশেষত গ্রামীণ পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, দারিদ্র নিরসন ও সামাজিক নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জলবায়ু পরিবর্তন সহায়তা তহবিল গঠন করে জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এ সময় মন্ত্রী বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে সাইক্লোন, জলোচ্ছাস ও বন্যার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের গৃহিত পদক্ষেপকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্ প্রসঙ্গে জনাব মায়া চৌধুরী বলেন, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত ও বন্যার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সঠিক ও নির্ভুল তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে দুই দেশ একমত হয়েছে।
পশ্চিম বাংলার দমকল, জরুরি পরিসেবা ও অসামরিক পরিসেবা মন্ত্রী জাবেদ আহমেদ খানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে উভয় দেশের গৃহিত পদক্ষেপ পরস্পরকে অবহিত করেছেন তারা। ঊভয় দেশের জনগণ একই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয় এবং অধিকাংশ সময়ে একই দুর্যোগেও উভয় দেশ আক্রান্ত হয়। দুর্যোগের আগাম বার্তার তথ্য অবহিত হওয়ামাত্র উভয় দেশ পরস্পরকে অবহিত করবে মর্মে মতবিনিময়কালে সিদ্ধান্ত হয়।
ইত্তেফাক/এএম।