মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রি এখন ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পোর্টাল, অ্যাপস ও সাইটের ওপরে নির্ভরশীল, এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই মিউজিকের এই ধারাবদলে তাই শিল্পীরাও সচেতন হয়েছেন তাদের নিজেদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের ক্ষেত্রে। এদেশে এখন পর্যন্ত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সর্বাধিক সাবস্ক্রাইবার হলেন এসময়ের জনপ্রিয়তম কণ্ঠশিল্পী ইমরান। এর পাশাপাশি একাধিক শিল্পীরা রয়েছেন যারা তারাও অন্যান্য সাইটের চেয়েও বেশি নজর দিচ্ছেন ইউটিউব চ্যানেলের ওপরে। এর একটি বিশেষ কারণ হলো শিল্পীরা এখন ইউটিউবে ভিউ থেকেই আয় করতে পারছেন।
এই ধারায় শুধু নবাগত শিল্পীরাই নন, এদেশের প্রথিতযশা শিল্পীরাও ইউটিউবে গান রিলিজ করছেন। ধারাবাহিকভাবে একাধিক গানে প্রশংসিত হয়েছেন দেশের প্রখ্যাত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার। এছাড়া ইউটিউবে এখন গানের ক্ষেত্রে নতুন শিল্পীদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থাগুলোও জোর দিচ্ছেন নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে। ইউটিউব চ্যানেলের ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রায় দেড়লক্ষ সাবস্ক্রাইব নিয়ে এগিয়ে রয়েছে সিডি চয়েস। এ প্রসঙ্গে সিডি চয়েসের কর্ণধার জহিরুল ইসলাম সোহেল বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিকে সম্মান করেই তার সাথে পথ চলা শুরু করেছি। তাই দীর্ঘদিন ধরে শিল্পীদের সমন্বিত শক্তিই আজকে আমাদের ডিজিটাল কনটেন্টের ক্ষেত্রেও শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছে।’
IMG0
এর পাশাপাশি সাউন্ডটেক, সঙ্গীতা, জি-সিরিজ, লেজার ভিশনও নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে এক্ষেত্রে ইউটিউব হিট পাবার লক্ষে অনেকেই নিজের গানে অশ্লীলতা বানকলের বিতর্কেও জড়িয়েছেন। তবে আদতে নান্দনিকতায় জয় করে ইউটিউব ভিউয়ার্স। একারণে হাবিব, তাহসান, হূদয় খান-এর গানগুলো এখন দেশী বিদেশী একাধিক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে দেবার জন্য চড়ামূল্যে কিনছেন শিল্পীদের গান ও ভিডিও কপিরাইট।
আর মিউজিক ভিডিওতে যে নান্দনিকতারই জয় হয় তার প্রমান মিলেছে ধ্রুব গুহর গানে। মাত্র ৩ টি গানের ভেতরে দর্শক শ্রোতাদের হূদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী ধ্রুব গুহ। তার ‘যে পাখি ঘর বোঝে না’ নামের একটি গান ১ কোটি দর্শক ছাড়িয়েছে। একজন নবাগত শিল্পী মাত্র কয়েকবছরের ক্যারিয়ারে এ ধরণের সাফল্য সত্যিকার অর্থেই ইর্শ্বনীয়। নিজের এই সাফল্যের অংক প্রসঙ্গে শিল্পী ধ্রুব গুহ বলেন,‘ আমার কাছে কত কোটি দর্শক ছড়ালো তা অনুপ্রেরণা দেয়, কিন্তু এটিই আমার গানের মূল বিজয় বলে মনে করি না। আজ আমি প্রত্যন্ত গ্রামে গেলেও যে আমার গানটি গুনগুনিয়ে দর্শক শ্রোতারা গেয়ে ওঠে, সেটাকেই গানের মূল বিজয় বলে মনে করি।’
এর বাইরে ব্যতিক্রম উদাহরণ তৈরি হচ্ছে একাধিক। কক্সবাজারের হতদরিদ্র পরিবারের ক্ষুদে মেধাবী কিশোর জাহিদের গাওয়া ‘মধু হই হই’ গানটি আজ সারা বিশ্বের বাঙালির কাছে এক নতুন বিনোদনের সুর। তাই টিভিতে কোটি টাকার সেট বানিয়ে কোটি টাকার ইনভেস্টমেন্টেরও যুগ যেন ম্রিয়মান হতে চলেছে। যে যার মতো করে মেধার লড়াইয়ের অন্যতম চারণভূমি হয়েছে আজ ইউটিউব।
IMG1
এদিকে ইউটিউবকে হুজুগ বলে আখ্যা দিয়ে দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রবনতা প্রবল আকার ধারণ করে, এটাকে সংক্ষেপে ‘হুযুগ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তেমন একটি হুযুগের নাম হচ্ছে ইউটিউব। অন্ততঃ এক বছর ধরে দেখছি ইউটিউবে ভিউ প্রবনতার উপর আমার কিছু ভাই ব্রাদার নিজেকে সেরা প্রমান করার চেষ্টা করছে,পত্রিকায় হরদম নিউজ হচ্ছে। ইউটিউব কি খায় না মাথায় দেয় -এটা নিয়ে গোলকধাঁধা অস্বীকার করার উপায় নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারনার জন্য বুস্ট পোষ্ট কেনা যায়, ইউটিউবেও প্রমোশনাল করা যায় গানের প্রচারের জন্য। এটা দোষের কিছু না, কেউ যদি চায় তার গান পৌঁছে যাক কোটি শ্রোতার চোখে কানে- এজন্য তিনি প্রমোশন করতে পারেন,এতে খরচ আছে,আয় দেখতে হবে মাইক্রোস্কোপে । তাছাড়া পত্রিকার বিনোদন পাতার ব্যাপ্তি বেড়েছে, সেখানেও আয়ের সুযোগ আছে। কোটি কোটি ভিউয়ার্স স্বেচ্ছায় দেখলে শিশু জাহিদের গাওয়া মধু খই খই বিষ খাওয়াইলা - গানটির মত ছড়িয়ে পড়তো অলিতে গলিতে,গান থাকতো মানুষের মুখে মুখে। পায়েস এবং সূজির মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। গান ভিউয়ার্সের কাছে পৌঁছে দেয়া আর ভিউয়ার্স স্বেচ্ছায় ভিউ করার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। মনে রাখতে হবে আজকালকার বাচ্চারাও ইউটিউব নির্ভর। জনপ্রিয়তা কিংবা যোগ্যতার মাপকাঠি ইউটিউব নয়, যদি হয় তাহলে পরীক্ষা প্রার্থনীয়। বিনোদন সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সম্যক জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন, অন্যথায় লোকে হাসবে। এতো বড় ইউটিউব সাম্র্রাজ্যকে টেস্টটিউব বেবী ভাবার কোন অবকাশ নেই । সুলতান সুলেমান বলেছেন-বড় শাহজাদা উত্তরসূরি হিসেবে সিংহাসনে বসতে পারে কিন্তু রাজ্য শাসন কে করবে সেটা সময়ই বলে দেবে !’
IMG2
তবে আগে যেমন অডিও ক্যাসেটের ক্ষেত্রে টপচার্টের কোনো নীতিমালা ছিলো না বা মাপার কোনো উপায় ছিল না। সেদিক দিয়ে ইউটিউবে অন্তত সবাই দিব্যচোখে জানতে পারছেন কার গানে শ্রোতা-দর্শকদের কতটা কৌতুহল। কারণ একটি গান ইউটিউবে রিলিজ করা মানে শুধু বিশেষ কোনো অঞ্চলের জন্য নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যাওয়া। তাই এসময়ে ইউটিউবের হিসেবটি অস্বীকার কোনো অবকাশ নেই।