মানুষের মাঝে স্বপ্ন জাগাতে হবে: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশের মানুষের মাঝে স্বপ্ন জাগাতে হবে এবং যার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন-সাধ পূরণ সম্ভব হবে। স্থানীয় নেতাদের ঐক্য ও সহযোগিতা নিয়ে আমরা ৩২ বছর ধরে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে যে ধারাবাহিক তত্পরতা চালিয়ে আসছি তা অব্যহত রাখা আবশ্যক। ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলের কৃষি ক্ষেত্রে এখন বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করার মধ্যদিয়ে এলাকার অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে মজবুত করা সময়ের দাবি। তিনি গতকাল শনিবার সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-ফাও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের সাথে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ফাও’র বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রতিনিধি মাইক রবসন, সহকারী প্রতিনিধি মোঃ নূর আহমেদ খোন্দকার ও সহকারী প্রতিনিধি (প্রশাসন) একরামুল হকের সাথে অনুষ্ঠিত ভবিষ্যত্ টেকসই উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় শীর্ষক  এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ। পাওয়ার পয়েন্টে ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় কৃষি, মত্স্য, প্রাণী সম্পদ ইত্যাদি বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুসের বিশদ  উপস্থাপনার উপর আলোচনায় ফাও’র প্রতিনিধি মাইক রবসন আলোচনা করেন। এ ছাড়া পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ ওয়ালিদ হোসেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোল্যা রেজাউল করিম, পিরোজপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, জেলা মত্স্য কর্মকর্তা, ভাণ্ডারিয়ার গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ১৭ বছর কয়েক পর্যায়ে মন্ত্রী হিসেবে সরকারে থাকার সুযোগে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার সৌভাগ্য হয়েছে। এ সময় উপলব্ধি হচ্ছে একটি পশ্চাত্পদ সমাজকে উন্নত করা খুবই দুরূহ। গত ১০ বছরে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করলেও স্বাধীন বাংলাদেশে বেশির ভাগ সময় দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য উন্নয়ন কাজ ব্যহত হয়।
 
উপজেলা পদ্ধতিকে উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আজকে স্থানীয় পর্যায়ের সমাজ জীবনে যে পরিবর্তনের ধারা লক্ষণীয়, সেখানে উপজেলায় শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত সরকারি কর্মকর্তাদের অবদান বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ৩০ বছর আগে ভাণ্ডারিয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ একজন কংগ্রেসম্যান ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সফরকালে তখন তারা এখানকার জনজীবনের যে পশ্চাত্পদতা প্রত্যক্ষ করে বিস্মিত হয়েছিলেন সে অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলকে ঘিরে আমাদের অনেক স্বপ্ন ও ইচ্ছা অসমাপ্ত রয়ে গেছে। যা হয়তো আমাদের জীবদ্দশায় সম্পন্ন হবে না। তারপরও সে স্বপ্ন পূরণের জন্য বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের নেতৃত্বকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
 
সে সময়কার ভাণ্ডারিয়ার কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা ও ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্মরণ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি আজ ভাণ্ডারিয়াবাসীর অবদানের জন্য গর্বিত। এ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমরা গতানুগতিক রাজনীতি চর্চা প্রবণতা থেকে মুক্ত থেকে মানুষের ঐক্য ও কর্মস্পৃহাকে সদ্ব্যহারের দিকটিকে সব সময় প্রাধান্য দিয়েছি। আমরা স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতির চরিত্র কেমন হবে তা অনুধাবন করে মানুষের জন্য কাজ করেছি এবং বিভক্তির রাজনীতিকে সকল সময় পরিহার করে সমাজ উন্নয়নে সচেষ্ট থেকেছি।
 
খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ফাও’র প্রতিনিধি মাইক রবসন মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৪টি জেলার ১০৭টি উপজেলায় কৃষি উন্নয়নের জন্য সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় ‘ফাও’র সহযোগিতায় একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখানে কৃষি উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল-ইফাদ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে সহযোগিতা করে এ অঞ্চলের কৃষির জন্য বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন যুক্তিসংগত। যেখানে কৃষি বিষয়ক গবেষণা ও সম্প্রসারণ কাজ করা হবে। এসব কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কৃষকদের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখতে আগ্রহী। যা অর্জনের জন্য স্থানীয় নেতৃত্বকে সোচ্চার হতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে প্রায় সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকার কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। কৃষি, ফসল, কৃষি যন্ত্রপাতি, কৃষি পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চলে ফাও’র বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় আজকের মতবিনিময় সভার কৃষি উন্নয়ন বিষয়ে যে সমৃদ্ধ উপস্থাপনা দেখলেন তাকে তিনি শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করে বলেন, আমি সত্যিই আজ অভিভূত। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার, তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত হোসেন, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভাণ্ডারিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ভিটাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান খান এনামুল কবির পান্না, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির প্রমুখ।
 
সভা শেষে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র সাথে ফাও’র প্রতিনিধি মাইক রবসন ও তার সহকর্মীরা ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখেন। এ সময় কৃষি, মত্স্য চাষ ও প্রাণী সম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে কৃষক ও গ্রামবাসীর সাথে কথা বলেন।
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল শনিবার বিকালে ভাণ্ডারিয়া মজিদা বেগম মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটির উদ্যোগে এক ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে আগত উপকার ভোগীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। এ কমিটির মহাপরিচালক ড. গাজী মোঃ জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল ও আওয়ামী লীগের পিরোজপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় মানুষের জন্য পরিকল্পিত ও গোছানো কাজ করা হয়। যার অংশ আজকের কুয়েতের এ সংস্থার ত্রাণ কার্যক্রম। সরকার এককভাবে যে ত্রাণ সাহায্য দেয় তা পর্যাপ্ত হয় না বলে দেশি-বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন হয়। কুয়েত যখন বহিঃশক্তির আগ্রাসনে বিপদগ্রস্ত হয় তখন বাংলাদেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তখন তাদের সাথে যে ঐক্য ও সহমর্মিতার সম্পর্ক সৃষ্টি হয় তা আজও অব্যাহত রয়েছে এবং আজকে তাদের এই ত্রাণ তত্পরতা সে কথাই প্রমাণ করে। তিনি এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ভাণ্ডারিয়াবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।
 

ইত্তেফাক/এএন