গৌরীপুরে জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য নতুন প্রজন্মকে জানাবে ‘পঁচাত্তর’!

ডানে-বামে জাতীয় চার নেতা, মাঝে বঙ্গবন্ধু! মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চমুখ। নভেম্বর মাস এলেই এ দৃশ্য মনে করিয়ে দেয় ’৭৫-এর নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কথা। শোকাতুর করে তোলে বাঙালি জাতিকে। সেই শোকাতুর মানুষের হূদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে গৌরীপুরের এ ভাস্কর্য। এ চত্বর নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে ‘পঁচাত্তর’-এর কলঙ্কময় অধ্যায়। গৌরীপুরে সোনালী রঙের পিতলে তৈরি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল ‘বঙ্গবন্ধু চত্বর’ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এ চত্বরে এলেই দর্শনার্থীদের জানিয়ে দেবে- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার পর ওই বছরের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রকোষ্ঠে চার জাতীয় নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি সেদিন জাতীয় চার নেতাকে গুলি করে হত্যা করে। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুরতম হত্যার ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল পুরো বিশ্ব। কারাগারে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এ ধরনের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। চমকপ্রদ এ চত্বরের পরিকল্পনা ও অর্থায়নের পুরো কৃতিত্বই সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপির। চত্বরের এক কোণায় রয়েছে বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবার।

 
তাদের নামের সঙ্গে দেয়া হয়েছে পরিচিতি। শিল্পী এমএ মাসুদের পরিকল্পনায় পাথরে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ। বাদ যায়নি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগে অবদান রাখা নেতৃবৃন্দও। বঙ্গবন্ধু চত্বরে চিত্রশিল্পী মৃণাল হক সোনালি রঙে তৈরি করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। দু’পাশে রয়েছেন জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতি। বঙ্গবন্ধুর বামপাশে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী, ডান পাশে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও অর্থমন্ত্রী এম কামরুজ্জামান। একপাশে রয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পুরো পরিবারের একটি গ্রুপ চিত্রায়ন করেন মৃিশল্পী মোহনগঞ্জের সুকেশ কুমার।
 
অন্য পাশে চিত্রশিল্পী এমএ মাসুদ পাথরে ফুটিয়ে তুলেছেন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, রুহুল আমিন, মুন্সী আব্দুর রব, সিপাহী হামিদুর রহমান, মোস্তফা কামাল, নুর মোহাম্মদ। পামবীথি সড়কের প্রতিটি গাছের গোড়ায় চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের অমর সৃষ্টি চিত্রকর্ম। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৫২’র ভাষা আন্দোলন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্যপটে অঙ্কিত ছবি। রয়েছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ বিশিষ্টজনের প্রতিকৃতি।
 
বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে একপলক দেখতে তারুণ্যের ঢল নামচ্ছে গৌরীপুরে। অপরূপ সৌন্দর্যের পুরোধা প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপি। তার ইচ্ছা ছিলো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই মুর্যাল উদ্বোধন করবেন। যা জীবনদশায় পূরণ হয়নি। তবে এসেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম। তিনি বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্যও অর্পণ করেছেন।
 

ইত্তেফাক/এএন