‘ট্রাম্পের জয় ইউরোপের জন্য গভীর উদ্বেগের’

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের প্রতি উদাসীন। তিনি নির্বাচিত হওয়ায় ইইউ’র সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক হুমকির মুখে রয়েছে। লুক্সেমবার্গে শুক্রবার শিক্ষার্থীদের সম্মেলনে এক ভাষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার এ কথা বলেন। ইইউ’র ওয়েবসাইটে এ কথা জানানো হয়। খবর রয়টার্সের।

 
এদিকে ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার পর ইউরোপের নীতি নির্ধারক, রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, উত্কণ্ঠা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও ওয়াশিংটনে নামেমাত্র ইউরোপের দেশগুলোর পক্ষ থেকে অভিনন্দনবার্তা পাঠানো হয়েছে। জামার্নি থেকে প্রকাশিত ইউরোপের প্রভাবশালী পত্রিকা স্পিগেল অনলাইনের প্রতিবেদক মার্কুস বেকেরের এক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের জটিল সম্পর্কের চিত্র ফুটে উঠেছে।
 
লেখাটিতে রাশিয়ার বর্তমান অবস্থান, সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধ এবং তুর্কীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রেখে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমার পুতিন ‘সমর্থিত’ ট্রাম্পের জয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপ ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নিবে সেই বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে। আবার ন্যাটো অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর একনায়কোচিত আচরণ এবং উদ্বাস্তু সমস্যাও ইউরোপের জন্য হুমকি বলে ওই লেখায় উল্লেখ করা হয়। তাছাড়াও ন্যাটোকে ইউরোপের আরো অর্থ দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য পূর্ব ইউরোপে ব্যাপক উদ্বেগের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
 
ট্রাম্প কী ইউরোপকে পুনরায় একীভূত করতে চান কীনা এমন প্রশ্লের জবাব অনুসন্ধান করতে গিয়ে ওই লেখায় দেখা যায়, এখন পর্যন্ত ট্রাম্প ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের বিভিন্ন দিক বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট এজেন্ডা হাজির করেননি। তবে অনেকে মনে করেন, ট্রাম্প ইউরোপের ঐক্যের বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন। এদিকে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসের রাষ্ট্র বিজ্ঞানী জেমস নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, আপনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে অনেকটা ভয় দেখতে পাচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা কিছু একটা করারও চেষ্টা করছেন। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার হুমকির মুখে আছে। এক্ষেত্রে সুপরিকল্পিত নীতি উপস্থাপনের জন্য ট্রাম্পের সময়ের প্রয়োজন আছে।
 
মার্কেল’স ক্রিস্টান ডেমোক্র্যাটসের সদস্য এবং ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ফরেন অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান এলমার ব্রক বলেন, ইউরোপের কাছে প্রথম দিকে জোসেফ স্তালিন আতঙ্কের ব্যাপার ছিল। এ বিবেচনায় ট্রাম্প দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। তবে ট্রাম্পকে গণখুনী স্তালিনের সাথে তুলনা করা হয়নি। ভয় ঐক্যকে নেতৃত্ব দিতে পারে। এক্ষেত্রে ভয়ের ব্যাপার হলো, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ছিল সেখানে থাকবে না।
 
অন্যদিকে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার বলেন, আমাদের যে বিষয়ে দৃষ্টি ছিল তা এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কখনো আজীবন ইউরোপের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে না। এটি আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ছাতা ইউরোপের উপর থেকে আজীবনের জন্য চলে গিয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধোত্তর বাস্তবতার ইতি ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের ইউরোপিয়ান সেনাবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে ইউরোপিয়ান প্রতিরক্ষা কমিশন গঠন করা উচিত।
 
জার্মান কাউন্সিল ফর ফরেন রিলেশন ড্যানিলা সেচওয়ারযের বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক পার্টনারশিপে জামার্নি ও ইউরোপের আর ভরসা করা ঠিক হবে না। পশ্চিমা মূল্যবোধের ভিত্তিতে তাদের নিজেদের রক্ষা করতে অবস্থান নেওয়া উচিত। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ইংল্যান্ডের বিদায় নেওয়ার কারণে এই জোটটি অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়েছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় হওয়া ছাড়াও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, জার্মানিতে ডানপন্থীদের আধিপত্য এবং পোলেন্ড ও হাঙ্গেরিতে ডানপন্থীদের ক্ষমতায় থাকার ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের একটি প্রকৃত আকার নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
 

ইত্তেফাক/এএন