বেগমগঞ্জ কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে এগারো বছর কারিগরি বিষয়ে পাঠদান বন্ধ

বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০০৫ সাল থেকে কারিগরি বিষয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও বিদ্যালয়টি শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত।

 
কারিগরি শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৬৫ সালে চৌমুহনী শহরের চৌরাস্তায় বেগমগঞ্জ সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ওই প্রতিষ্ঠানকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে অবকাঠামোগতসহ যাবতীয় উন্নয়ন করা হয়। প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন ছাড়াও স্বয়ংসম্পূর্ণ ওয়ার্কশপ নির্মাণ করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানো হয়। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কাঠের, লৌহার, জ্যামিতি ও কারিগরি অঙ্কসহ বিভিন্ন ট্রেড কোর্স চালু ছিল। ২০০৫ সাল থেকে কারিগরি বিভিন্ন ট্রেড কোর্স বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ওয়ার্কশপ ভবনটি অব্যবহূত রয়েছে। বর্তমানে ওই ভবনের দরজা-জানালা কিছুই নেই। ভিতরের যন্ত্রপাতি অনেক নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু জিনিস চুরি হয়ে গেছে।
 
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর নোয়াখালী জেলার প্রধান ক্যাম্প ছিল এই বিদ্যালয়ে। এখানে পাক বাহিনীর টর্চার সেলও ছিল, সে সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রভূত ক্ষতি সাধন হয়। কারিগরি বিভিন্ন ট্রেড কোর্সের পাঠদান বন্ধ হয়ে গেলেও সাধারণ শিক্ষাদানে শিক্ষক সংকট প্রকট।
 
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সাহা জানান, বিদ্যালয়টি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করার সকল সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তার প্রতি কারো নজর নেই। ওয়ার্কশপ ভবনটি মেরামত করে পুনরায় ট্রেড কোর্সগুলো চালু করা যেতে পারে। বিদ্যালয়ে ২৯ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও আছেন মাত্র ১৫ জন শিক্ষক। ইংরেজি ও বাণিজ্য বিভাগের কোনো শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ছাত্রীদের কমনরুম হিসেবে ব্যবহার করা হলেও ছাত্রদের কোনো কমনরুম নেই।
 
অফিস সহকারী মাত্র একজন, শ্রেণি শিক্ষকদের কক্ষ, অফিস কক্ষসহ সর্বত্র ভাঙাচোরা আসবাবপত্র। বিদ্যালয়ে একটি অংশ সরকারি বইয়ের গুদাম করা হয়েছে। তা ছাড়া স্কাউটিং, বিভিন্ন সরকারি মেলাসহ নানা কর্মসূচি পালন করায় বিদ্যালয় মাঠটি ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়টি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি ট্রেডসহ উন্নীত করা হলে ছাত্রছাত্রীরা কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
 
ইত্তেফাক/এএন