মা-মেয়ের দু’হাত পেছনে খুঁটিতে বাঁধা। পা দুটি সামনের খুঁটিতে টান করে বাঁধা ছিল যেন নড়াচড়া না করা যায়। প্রথম দফায় নির্যাতনে জ্ঞান হারান মা-মেয়ে। জ্ঞান ফিরলে দেখেন, চোখের সামনে বড় সুই, ডিম, বরফের খণ্ড, চুলকাটার কেচিসহ আরো অনেক কিছু। এতসব আয়োজন করা হয় মাটির ব্যাংক থেকে সঞ্চিত ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তি নিতে।
অবশেষে একমাত্র সম্বল, সাত শতক ভিটে বাড়ি মঙ্গলবার লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সাত ঘণ্টার নির্যাতন থেকে মিলে অব্যাহতি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে অশ্রুসজল চোখে নির্মম এ ঘটনার বর্ণনা দেন নির্যাতিত শাহানা বেগম ও মেয়ে শামসুন নাহার। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লা গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
সরজমিনে রবিবার গিয়ে জানা যায়, কামাল্লা গ্রামের ব্যবসায়ী মোছলে উদ্দিনের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন একই গ্রামের আ. হকের মেয়ে শামসুন নাহার (১৬)। গত বৃহস্পতিবার রাতে মোছলে উদ্দিন তার বাড়ির মাটির ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ আনেন গৃহপরিচারিকা শামসুন নাহারের বিরুদ্ধে। পরদিন শুক্রবার সকালে শামসুন নাহার, মা শাহানা বেগম (৪০), বাবা আ. হক ও শামসুন নাহারের ছোট ভাই রবিউলকে (১০) কয়েকজন লোকের মাধ্যমে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। এসময় স্থানীয় কয়েকজন মোড়লের উপস্থিতিতে তাদেরকে মোছলে উদ্দিনের বাড়ির একটি কক্ষে সাতঘণ্টা আটক রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
তখন তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করে মোবাইলে ভিডিও করে রাখা হয়। এরপর কয়েকটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও টিপসই রাখে তারা। ধার্যকৃত টাকা মঙ্গলবারের মধ্যে পরিশোধ করতে না করতে পারলে তাদের একমাত্র ভিটে বাড়িটি মোছলে উদ্দিনের নামে লিখে দেওয়ার শর্তে বিকাল তিনটায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কোনো জানাজানি হলে তাদেরকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়।
মোছলে উদ্দিন টাকা চুরির কারণে তাদেরকে মারধর করার কথা স্বীকার করে বলেন, ওই মাটির ব্যাংকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিল। টাকা ফেরত দিতে না পারলে মঙ্গলবার শাহানা বেগম তার বাড়ির সাত শতক জায়গা লিখে দিবেন এই মর্মে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন স্থানীয়রা।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এধরনের ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/কেকে