বিক্ষোভের দৃশ্য ভেনিসে একেবারে বেমানান হলেও সেটাই ঘটেছে সেখানে। আর প্রতীকী হিসাবে মিছিলে ছিল একটা বিশাল আকারের স্যুটকেস। বাড়ি ছাড়ার জন্য প্রতীকী হিসাবে এটা দেখানো হয়েছে। ভেনিসবাসীরা বলছেন, পর্যটকের ভিড়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে তারা এই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।
সম্পতি বিক্ষুব্ধদের আন্দোলনে পুরো অচল হয়ে পড়ে ভেনিস শহর। তাদের বক্তব্য, ভেনিস আস্তে আস্তে তাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা এখন আর একে তাদের নিজেদের বলে দাবি করতে পারছেন না। মূলত ভেনিসের আকর্ষণীয় স্থাপত্য দেখতে বা গন্ডোলায় করে ঘুরতে সেখানে এত বেশি পর্যটকের সমাগম হয়। আর এই অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড়ে তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। ইতালির সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের একটি ভেনিস। অনেকে একে বলেন ভাসমান শহর। ১১৭টি ছোট দ্বীপ নিয়ে তৈরি ভেনিসের মূল আকর্ষণ হলো এর ভবনগুলো। কারণ সেগুলো কাঠের পাটাতন আর খুঁটি দিয়ে পানির ওপর তৈরি করা। সেখানে কোনো গাড়ি চালানোর রাস্তা নেই। রয়েছে অসংখ্য খাল আর ব্রিজ।
চলাচল শুধু পায়ে হেঁটে অথবা ওয়াটার বাসে। কিন্তু পর্যটকদের ভিড়ে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলে যেতে হচ্ছে আশপাশের শহরে। ভেনিসে ভরা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৬০ হাজারের মতো পর্যটক বেড়াতে আসেন। কিন্তু শহরের আসল বাসিন্দা এর চেয়ে কম। নিজের বাড়ি বলে কিছুই যেন আর থাকে না। তাছাড়া বাড়ির মালিকেরা পর্যটকদের ভাড়া দিতেই বেশি আগ্রহী কারণ তাতেই পয়সা বেশি আসে। পর্যটকদের ভিড়ে দেখা দিচ্ছে বাসস্থান সঙ্কট। পর্যটন কেন্দ্রে সবকিছুর দামও অনেক বেশি থাকে। তাই প্রয়োজনীয় সবকিছু বেশ আগেই চলে গেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগালের বাইরে। সব মিলিয়ে বিরক্ত ভেনিশিয়ানরা শেষমেষ পর্যটক হঠাও আন্দোলনে নেমেছেন।
ইত্তেফাক/এএন